এস.এম. রুহুল তাড়াশী, স্টাফ রিপোর্টার
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে পানির অপ্রতুলতায় সোনালী আঁশ পাটজাগ কার্যক্রমে নেমেছে স্থবিরতা। শ্রাবণ মাসের দ্বারপ্রান্তেও বিলাঞ্চলে বন্যার জলধারা দেখা না দেওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। অপরিষ্কার, দূষিত ও অগভীর পানিতে পাটজাগ দিতে গিয়ে পাটের আঁশের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, রং হয়ে পড়ছে কালচে।

উপজেলার খাল-বিল প্রায় শুকনো। যেখানে জলাধার আছে, সেগুলো অধিকাংশই বাণিজ্যিক মাছচাষের জন্য ব্যবহৃত। পুকুরে হাঁস নামানো তো দূরের কথা, পাটজাগের কথাই ওঠে না। ফলে কেউ কেউ ব্যক্তিমালিকানার জলাশয় সাময়িক ভাড়া নিয়ে ১ থেকে ২ হাজার টাকা খরচ করে পাটজাগ দিচ্ছেন, কিন্তু সবার পক্ষে তা সম্ভব নয়।
তাড়াশ উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৮১০ হেক্টর জমিতে তোষা, কেনাফ, মেস্তা, বিভিন্ন প্রজাতির পাটের চাষ হয়েছে। ফলনও মোটামুটি সন্তোষজনক, বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন মিলছে।
তবে মাঠে-ঘাটে ছবিটা ভিন্ন। ভায়াট গ্রামের কৃষক রবি আক্ষেপ করে জানান, “জমির পাট কেটে রেখেছি, অথচ জাগ দিতে পারছি না। পানি নেই, পাট শুকিয়ে যাচ্ছে।” কালুপাড়া গ্রামের কৃষক বচ্চু রহমান বলেন, “ফলন ভালো হলেও তিন বিঘার মধ্যে এক বিঘার পাট এখনও জাগে ওঠাতে পারিনি। কোথাও পানি নেই।”
আরেক কৃষক শহীদ জামাল হোসেন জানান, “জমির পাট কেটে ফেললে সেই জমিতে রোপা আমনের চাষ করতে পারতাম। কিন্তু পানি আর জায়গার অভাবে পাট কাটা স্থগিত রেখেছি।”
এদিকে অপরিষ্কার পানিতে পাটজাগ দেওয়ায় আঁশের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা ঘনিয়ে এসেছে।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা অবশ্য জানান, “কিছু এলাকায় সাময়িক পানির টান থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় জলাশয় ও জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি মজুত রয়েছে। কৃষকদের সহায়তার জন্য আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।”
কৃষকেরা বলছেন, বৃষ্টি না হলে এ সোনালী আঁশের মৌসুমে শুধু ফলন নয়, স্বপ্নও শুকিয়ে যাবে মাঠে।