নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিএনপির বিজয় মিছিল বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগ থেকেই নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করলে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এতে মতিঝিল, গুলিস্তান, কাকরাইল, মালিবাগ, মগবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিজয়নগর, পুরানা পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন ঘুরে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সকাল ১১টার পর থেকেই বিভিন্ন দিক থেকে খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন, ফলে রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা।
দুপুর ২টার দিকে ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা মোড়, গুলিস্তান, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, মগবাজার এবং আশপাশের গলিগুলোতেও যানবাহনের চাপে তীব্র জট দেখা দেয়।
পুরানা পল্টন মোড়ে দেখা যায়, গাজীপুরগামী বাসের যাত্রী আবরার রহমান জ্যামে পড়ে ক্ষোভে বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার একটু পর সিএমএম কোর্ট এলাকা থেকে বাসে উঠি, কিন্তু গুলিস্তান পর্যন্ত এসেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিলাম। পরে বাস থেকে নেমে মেট্রো রেলে উঠবো ভেবে হাঁটতে থাকি। রাজনৈতিক দল আনন্দে মিছিল করছে, আর আমরা অসহ্য গরমে গাড়ির ভেতর দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছি!”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানান রামপুরা থেকে কাকরাইলে রওনা হওয়া যাত্রী মাহাবুব মোর্শেদ। তিনি বলেন, “সারা রাস্তায় শুধু যানজট। শেষমেশ মৌচাক মোড় থেকে রিকশা নিয়ে গলিপথে যেতে বাধ্য হয়েছি।”
তবে এই পরিস্থিতিতে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতার কথা জানান ঢাকা মহানগর উত্তরের যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল। তিনি বলেন, “জনভোগান্তি কমাতে আমরা নিজেরাও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছি।”
এ বিষয়ে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মামুন মিয়া বলেন, “একাধিক কর্মসূচির কারণে সকাল ১০টা থেকেই রামপুরা-বাড্ডা রোডে যান চলাচলে ধীরগতি দেখা দেয়। বেলা ১১টার দিকে লিংক রোড সাময়িক বন্ধ থাকায় বিকল্প সড়কগুলোতেও গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। তার সঙ্গে নয়াপল্টনে বিএনপির কর্মসূচির প্রভাব তো রয়েছেই।”
নগরবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সচেতন মহল মনে করছেন, যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি জনদুর্ভোগ এড়িয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা উচিত।