বিনোদন ডেস্ক :
সুপারহিরো, সিক্যুয়েল কিংবা পুরোনো ক্লাসিকের রিবুটে ক্লান্ত দর্শকেরা নতুন স্বাদ খুঁজে নিচ্ছেন হরর ঘরানার ছবিতে। অতিপ্রাকৃত ভয়, অজানা আতঙ্ক, আর অনিশ্চয়তার প্রহর যেন আজকের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। আর সেই চাহিদাকেই মেটাতে বিশ্ব চলচ্চিত্রে হরর সিনেমার চাহিদা বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা কমস্কোর-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে উত্তর আমেরিকার মোট টিকিট বিক্রির ১৭ শতাংশ-ই এসেছে হরর ছবির খাত থেকে, যেখানে এক বছর আগেও সেই হার ছিল ১১ শতাংশ, আর এক দশক আগেও ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরর ছবি শুধুই ভয় দেখায় না, এটি বর্তমান বাস্তবতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার এক নির্মল উপায়। বিশ্বব্যাপী মহামারি-পরবর্তী মানসিক চাপ, প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণহীনতা, সামাজিক বিভক্তি ও পারিবারিক উদ্বেগ, সবকিছু মিলে হরর এখন হয়ে উঠছে এক সামাজিক ব্যাখ্যা।
এই প্রেক্ষাপটে এবার বাংলাদেশেও হররপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ দিন হয়ে উঠছে ৮ আগস্ট, যখন দেশের স্টার সিনেপ্লেক্সসহ বিশ্বব্যাপী একসঙ্গে মুক্তি পেতে যাচ্ছে দুইটি বহুল প্রতীক্ষিত ভৌতিক ছবি, ‘ওয়েপনস’ (যুক্তরাষ্ট্র) এবং ‘সিকিন ৮’ (তুরস্ক)।
‘ওয়েপনস’: অলৌকিক নিখোঁজের রহস্যে ঘেরা ছোট শহর
পরিচালক জ্যাক ক্রেগার নির্মিত মার্কিন হরর-থ্রিলার ‘ওয়েপনস’ এক অলৌকিক রহস্যে মোড়া চমকপ্রদ কাহিনি। এতে অভিনয় করেছেন যশ ব্রোলিন, জুলিয়া গার্নার, ক্যারি ক্রিস্টোফার, অস্টিন আব্রামস, ও অ্যামি ম্যাডিগান।
ছবির কাহিনি শুরু হয় ছোট্ট শহর মেব্রুক-এ। এক রাতে একই স্কুলের ১৭ জন শিশু হঠাৎ করে রাত ২টা ১৭ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরদিন স্কুলে দেখা মেলে কেবল একজনের—অ্যালেক্স লিলি। বাকিরা কোথায়? শুরু হয় ভয়ংকর অনুসন্ধান। অভিভাবক, পুলিশ, শিক্ষক এবং স্থানীয়রা যখন একসঙ্গে খুঁজতে নামে, তখন একে একে উন্মোচিত হতে থাকে ভয়াল অতিপ্রাকৃত ইঙ্গিত।
ছবিটি ছয়টি পৃথক অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রতিটি অধ্যায় উপস্থাপন করে আলাদা চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পের জটিলতা। ছোট ছোট রহস্য মিলিয়ে তৈরি হয় এক ধ্বংসাত্মক ক্লাইম্যাক্স, যা দর্শকের মনে ভয় ও বিস্ময়ের ছাপ রেখে যায়।
ইতোমধ্যে আইএমডিবি ও রোটেন টমেটোস-এ ইতিবাচক রিভিউ কুড়িয়েছে ছবিটি। অনেকেই একে ২০২৫ সালের সেরা হরর-থ্রিলার হিসেবে অভিহিত করছেন।
‘সিকিন ৮’: জাদুবিদ্যা, জিন আর পারিবারিক গোপন সংকটের গল্প
তুরস্কের জনপ্রিয় সুপারন্যাচারাল হরর সিরিজ ‘সিকিন’-এর অষ্টম কিস্তি ‘সিকিন ৮’। পরিচালনা করেছেন সিরিজটির পুরোনো পরিচালক অ্যালপার মেস্তকি। এটি এমন এক ভৌতিক পরিবারিক ট্র্যাজেডির গল্প, যেখানে জিন, কালো যাদু ও অপরাধবোধ একাকার হয়ে গেছে।
মূল চরিত্র ফাতিহ, তার স্ত্রীর অনুরোধে নিজের বৃদ্ধা মা গুনহুল-কে পাঠিয়ে দেন বৃদ্ধাশ্রমে। মা চলে যেতেই বাড়িতে শুরু হয় ভয়াবহ সব অলৌকিক ঘটনা, ছায়া, শব্দ, অদৃশ্য অস্তিত্ব। ফাতিহ যখন অনুতপ্ত হয়ে মাকে ফিরিয়ে আনেন, তখন আবিষ্কার করেন, এই মা তার পরিচিত সেই মা নন!
এরপর ধীরে ধীরে ফাতিহ ও তার পরিবারের ওপর নেমে আসে ভয়ংকর বিপর্যয়। ছবিটি পারিবারিক অপরাধবোধ, অতীতের পাপ এবং অতিপ্রাকৃত অভিশাপের এক নির্মম সম্মিলন। জাদুবিদ্যা, জিন ও গোপন পারিবারিক সত্যকে কেন্দ্র করে ‘সিকিন ৮’ দর্শকদের দেয় ঠান্ডা আতঙ্কে জমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা।
বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্স-এ ৮ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে এই দুটি ছবিই—একসঙ্গে। ভিন্ন দুটি সংস্কৃতি, ভিন্ন দুই গল্প, কিন্তু এক জায়গায় মিলে গেছে ভয়, অন্ধকার, ও উত্তেজনা।
এই দিনে যারা সিনেমা হলে পা রাখবেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অভাবনীয় নিশি, যেখানে আলো নিভে গেলে পর্দার আতঙ্ক ছড়িয়ে যাবে হাড়ে-মজ্জায়।