ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সর্বশেষ সামরিক আপডেটে ইরানের ভেতরে সরকারি ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে এক নজিরবিহীন ও ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। জেরুজালেম থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এই আক্রমণটি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তাদের যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পয়েন্টে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানছে। তেহরানের আকাশে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার খবরও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।
এই ভয়াবহ সংঘাতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের ‘ছায়া যুদ্ধ’ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। মূলত গত ১ অক্টোবর ইরান ইসরায়েলের ওপর প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা ছিল হিজবুল্লাহ ও হামাস নেতাদের হত্যার প্রতিশোধ। ইসরায়েল তখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যে তারা ইরানি ভূখণ্ডে এর কড়া জবাব দেবে। সাম্প্রতিক এই হামলা মূলত সেই প্রতিশোধমূলক অভিযানেরই একটি অংশ।
এছাড়া ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী যেমন হিজবুল্লাহ ও হামাসের সাথে ইসরায়েলের চলমান লড়াই এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এই উত্তেজনাকে এক চরম শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন আশঙ্কা করছে, এই সরাসরি পাল্টা-পাল্টি হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে।