নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নদী-খাল রক্ষায় কঠোর নজরদারি, শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনাজাতীয় সংসদ ভবন, ১৫ এপ্রিল ২০২৬: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উন্নতির মাধ্যমে নদী, খাল, বিলসহ দেশের সব জলাশয় দূষণমুক্ত করার পথে কার্যকর অগ্রগতি অর্জিত হবে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিবেশগত সংকট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে একাধিক বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা আশা করি আগামী এক বছরের মধ্যেই নদী-খাল ও জলাশয়ের দূষণ রোধে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন জনগণ অনুভব করবে।”
সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির অধীনে গাজীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে পরিবেশ দূষণের সার্বিক প্রভাব-জনস্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ-নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রী জানান, শিল্পবর্জ্য, নগর বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে পরিবেশের উপর বহুমাত্রিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি খাল ও জলাশয়ে ফেলার ফলে পানির মান নষ্ট হচ্ছে, যা ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর আমিনবাজারে একটি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে বিবেচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শহরে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারখানাগুলোতে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (বর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্র) স্থাপন বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে নদী ও জলাশয়ে অপরিশোধিত বর্জ্য না যায়। একই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সরেজমিন ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম তদারকি করছে।
গাজীপুর-৩ এলাকার পরিবেশ পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ওই এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রপ্রাপ্ত মোট ৮৭৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ১২৯টি প্রতিষ্ঠান তরল বর্জ্য নির্গমন করে। এসব প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবায়ন ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১২৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২১টিতে ইতোমধ্যে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী ঘোষণা করেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে “শূন্য নিঃসরণ” নীতিমালা বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে শিল্পবর্জ্য থেকে নদী ও জলাশয় দূষণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।