রংপুর ব্যুরোঃ
রংপুরে দীর্ঘদিন থেকে জমি জমা নিয়ে মামলা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নগরীর তালুক তামপাট মগলের বাগ এলাকায় মিথ্যা চুরির ঘটনা সাজিয়ে নিরীহ শিশিরসহ গ্রামবাসীকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার দুপুরে রংপুর নগরীর একটি হোটেলে মিথ্যা চুরির ঘটনা সাজিয়ে নাটকীয় মামলা থেকে অসহায় নিরীহ পরিবারকে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মা শিউলি বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিউলি বেগম জানান,দীর্ঘদিন থেকে জমি জমা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে সাজানো মিথ্যা চুরির নাটকীয় মামলা দিয়ে আমার ছেলে শিশির কে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রাপ্ত সংবাদ সম্মেলনে জানা গেছে,রংপুর নগরীর তাজহাট থানা এলাকার তালুক তামপাট মোগলেরবাগ গ্রামে দিনমজুর বকুল মিয়ার স্ত্রী মোসাঃ শিউলি বেগম এলাকার শতাধিক গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার দিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে একই গ্রামের ওমর ফারুক বাড়িতে ছিলেন না বলে ওই রাতেই তার বাড়িতে তালা ভেঙ্গে সংগঠিত হয়। পরে তিনি তাজহাট থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় সন্দেহজনক ভাবে শিশির মিয়াসহ আরো অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে গত ২৭/ ২/ ২৬ তারিখে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পুলিশকে সহায়তা করে শিশির মিয়াসহ অন্যান্যদের কে গ্রেফতার করে।
মিথ্যা নাটকীয় চুরির মামলায় ওই এলাকায় অনেকের সাথে কথা হলে তারা বলেন,দীর্ঘদিন থেকে জমি জমা নিয়ে বিরোধের জেরে এই মামলাটি সূত্রপাত হয়েছে। আমাদের জানা মতে। এই এলাকায় এই ধরনের চুরির কোন ঘটনা ঘটেনি।
এটি একটি সাজানো নাটকীয় মামলা থেকে মুক্তি পেতে পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। এলাকার কতিপয় ওমর রাজা, মিঠুন ও জাবেদ নিজেদের দোষ আড়াল করতে অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। যা সমাজের মানুষজন মেনে নিতে পারছে না। এমন মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য এসব নাটকীয় মামলা সাজানো কতিপয় কিছু লোক।
লিখিত বক্তব্যে শিশিরের মা শিউলি বেগম জানান, আমার ছেলে কারুপূণ্যতে দিনমজুরের কাজ করে। জীবিকা নির্বাহী করে আসছে। এসব ঘটনার সাথে আমার ছেলে জড়িত নয়। আমি গরিব অসহায় নিরীহ মানুষ ছেলে মেয়ে নিয়ে জীবিকার তাগিতে মাঠে ঘাটে কাজ করি। এই মিথ্যা মামলা থেকে শিশিরকে নিঃস্বার্থ মুক্তি দিয়ে মামলাটি পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তারের অনুরোধ করছি।
এ বিষয়ে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, একটি চুরির মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে যদি শিশির নির্দোষ প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে এই মামলা থেকে অব্যাহত দেয়া হবে। যারা এই ঘটনার সাথে প্রকৃতভাবে জড়িত আছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। যদি কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে ফাঁসানো চেষ্টা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।