নিজস্ব প্রতিনিধঃ
রাজনীতির মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যে ছাত্রলীগকে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই সংগঠনের কর্মীদের প্রতিই এখন ‘শর্তসাপেক্ষে’ দরজা খুলে দিচ্ছে দলটি। এতে প্রশ্ন উঠছে—কেন এই অবস্থান?
রোববার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তির অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং তার বর্তমান অবস্থান ও আচরণই এনসিপির কাছে মুখ্য।
তার ভাষায়, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ কিংবা ছাত্রলীগ—যে সংগঠন থেকেই কেউ আসুক না কেন, যদি তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদে সম্পৃক্ততা, গণহত্যায় অংশগ্রহণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের অভিযোগ না থাকে, তাহলে তাকে এনসিপিতে স্বাগত জানানো হবে।
নাহিদ ইসলাম আরও জানান, অতীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কেউ চাইলে এনসিপিতে যোগ দিতে পারবেন। তবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাকে দলের আদর্শ ধারণ করে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই অবস্থান মূলত দুইটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ—
প্রথমত, দেশের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির বাইরে ঠেলে না দিয়ে ‘ফিল্টারিংয়ের মাধ্যমে’ অন্তর্ভুক্ত করতে চায় এনসিপি।
দ্বিতীয়ত, নতুন দল হিসেবে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে একটি বৃহৎ কর্মীবাহিনী প্রয়োজন। সে জায়গা থেকেই ‘অপরাধমুক্ত’ ছাত্রলীগ কর্মীদের সুযোগ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি।
এনসিপির আহ্বায়ক জোর দিয়ে বলেন, “অনেকেই এতদিন একই আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন তারা একত্রিত হচ্ছেন।”
দলটি মনে করছে, একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে বিভাজনের রাজনীতি থেকে বের হয়ে ‘আদর্শভিত্তিক ঐক্য’ গড়ে তোলা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে তরুণদের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নাহিদ ইসলাম বলেন, ভবিষ্যতে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের দেওয়া সংস্কারের রায় বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সবশেষে, দেশের সর্বস্তরের মানুষ—বিশেষ করে তরুণদের—এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।