আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ স্বাভাবিক রাখতে নতুন একটি শান্তি প্রস্তাব সামনে এনেছে ইরান। প্রস্তাবটির মূল বিষয় হলো—আপাতত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত রেখে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তান, ওমান এবং রাশিয়া সফর করেছেন। এসব সফরের উদ্দেশ্য ছিল প্রস্তাবটির পক্ষে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলা। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠককে এই কূটনৈতিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবটির বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পারমাণবিক ইস্যু উপেক্ষা করা হলে কোনো চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে সরে আসার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তবে তিনি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এদিকে এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সময়ের চাপও যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আঞ্চলিক পর্যায়ে পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছে। অন্যদিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং নৌপথের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার অবস্থান ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মস্কো এই প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যাতে একটি বিস্তৃত সমঝোতা গড়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ। এটি সচল থাকলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে, আর বন্ধ হলে বাজারে দ্রুত অস্থিরতা দেখা দেয়।
বর্তমানে সবকিছু নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। উভয় পক্ষ গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি তেলের বাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। অন্যথায় এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা