আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল, যখন যুক্তরাষ্ট্র এর হাতে আটক ইরানের কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘তউসকা’র ছয়জন ক্রু মুক্ত হয়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। তবে একই ঘটনায় এখনও ২২ জন ক্রু মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্দিদশার পর মুক্তি পাওয়া ক্রুরা নিরাপদে ইরান পৌঁছেছেন। অন্যদিকে বাকি ক্রুদের মুক্তির জন্য দেশটির কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে।
গত ২০ এপ্রিল বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে জাহাজটি জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। এ বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে, ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ চলাকালে জাহাজটিকে নির্ধারিত পথ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করায় জাহাজটি আটক করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও, ইরান এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
এদিকে আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, এই ঘটনা শুধু একটি জাহাজ জব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ ও সামুদ্রিক অবরোধ নীতিরই প্রতিফলন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।