আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Bloomberg-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সম্ভাব্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও কার্যকর হামলার সক্ষমতা বাড়াতে এই উন্নত অস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষ করে “ডার্ক ইগল” নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
অনুমোদন পেলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে প্রথম সরাসরি হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েনের ঘটনা। তবে পরিকল্পনাটি এখনো হোয়াইট হাউস-এর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সেন্টকমের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি বর্তমানে প্রচলিত দূরপাল্লার অস্ত্রের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম নতুন প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গতিতে ছুটে যেতে পারে এবং জটিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, এখনো কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, একতরফা কোনো শর্তে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। দেশটির মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই নতুন অস্ত্র মোতায়েনের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি বৈশ্বিক নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তথ্যসূত্র: তাস