ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার জমি দাবি করা তিন ভাইয়ের কাছ থেকে দখলমুক্ত হলো কালি মন্দিরের ৩ শতাংশ জায়গা।

রোববার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টায় উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের কালি মন্দিরের পাশে জায়গা উদ্ধারের জন্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় করেন ভৈরব সহকারী জজ আদালত, বাজিতপুর চৌকি নাজির নাঈম চৌধুরি।

এসময় অভিযানে সহযোগিতা করেন, ভৈরব থানার এসআই মো.তোফায়েল আহমেদ, ভৈরব সহকারী জজ আদালত, বাজিতপুর চৌকি প্রসেস সার্ভেয়ার মো.নজরুল ইসলাম, আমিন কমিশনার মাহবুবুর রহমান, ঢলি আশেক আলী প্রমুখ। এছাড়া এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাদেকপুর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ড এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত কালী মন্দিরের জায়গা দখল করে রেখেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর তিন দখলবাজ ভাই। তারা একই গ্রামের বাসিন্দা নগেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে নিরঞ্জন দাস, কমল রঞ্জন চন্দ্র দাস ও শুকুর চন্দ্র দাস। তিন ভাইয়ের দাবি মন্দিরের জায়গাটি তাদের বাপ দাদার। অপরদিকে এলাকার বসবাসরত প্রায় ৫শ হিন্দুদের দাবি তাদের কোন কাগজপত্র নেই। এলাকার একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তারা তিন ভাই জবরদখল করে মন্দিরের জায়গায় দুটি ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করছে।
এলাকাবাসী তাদেরকে উচ্ছেদের কথা বললেই হুমকি ধামকি দেয়। অবশেষে সাড়ে তিন বছর পূর্বে মামলা দায়ের পর আদালতের রায়ের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই মন্দিরটি সাদেকপুর গ্রামের পাঁচশত হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রার্থনার জায়গা। অভিযানে দখলকৃত জায়গায় দুটি আধাপাকা টিনের ঘর উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
সাদেকপুর কালি মন্দির কমিটির সভাপতি দিলীপ সরকার বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর অবৈধ দখলবাজদের হাত থেকে কালি মন্দিরের ৩ শতাংশ জায়গা আজ আদালতের রায়ের মাধ্যমে দখল মুক্ত হলো। দীর্ঘ বছর ধরে জায়গা বেদখল থাকায় মন্দিরের কোন উন্নয়নমূলক কাজ করা যায়নি। এখন আর কোনো বাঁধা রইল না। আজকের দিনটি আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ৫শত পরিবারের অত্যন্ত আনন্দের দিন। সেজন্যই দেশের সরকারের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে ভৈরব সহকারী জজ আদালত, বাজিতপুর চৌকির নাজির নাঈম চৌধুরি জানান, সাদেকপুর কালি মন্দিরের ৩ শতাংশ জায়গা অবৈধভাবে দখল করে আসছিলো তাদেরই সম্প্রদায়ের তিন ভাই। গত সাড়ে তিন বছর পূর্বে দখলের অভিযোগে মন্দির কমিটির সভাপতি বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার রায়ে মন্দিরের জায়গা দখলকৃতদের কাছ থেকে উচ্ছেদ করে উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা আদালতের রায় বাস্তবায়নে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি।