ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক :
৩১ অক্টোবর ২০২৩ সালে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে অবরোধ চলাকালীন সময়ে পুলিশের গুলিতে ছয়সূতি ইউনিয়নের কৃষক দলের সভাপতি শহিদ বিল্লাল ও একই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শহিদ রেফায়েতুল্লার মৃত্যুতে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ আজ শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের বড় ছয়সূতি আরব আলী চক বাজার মাঠে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ছয়সূতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন মুর্শেদ নিজামী বাবুল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম।
ছয়সূতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলিম উদ্দিন রতন এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল মিল্লাত, সাধারণ সম্পাদক এম.এ হান্নান, কুলিয়ারচর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. শাহ আলম, সাবেক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন খান শাহজাহান, কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষকদল সভাপতি এড: মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ আল মস্তুফা (মারুফ মিয়া) প্রমুখ।
স্মরণ সভায় কুলিয়ারচর উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন৷
দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুই সন্তানের কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষের কথা ভেবে কারাগারকে বেছে নিয়ে ছিলেন। শহিদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিল। সে দিন বাঘা বাঘা নেতারা ইন্ডিয়া পাকিস্তান বসে পোলাও কুড়মা গিলেছিল। খালেদা জিয়ার একটাই দোষ ছিল তিনি দেশের মানুষকে ভালবাসতন দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধে নেমেছিলেন। তিনি ছিলেন আপোষহীন। ১ এলিবেনের সময় থেকে শেখ হাসিনার ১৭ বছর খালেদা জিয়া কখনো জেলে কখনো কারাগারে কখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছিল৷ খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে বাংলাদেশে রাজনীতি যেন না করতে না পারে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দেশকেও অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। ১৭ বছরে শেখ হাসিনা কত হাজার মায়ের বুক খালি করেছেন তা অগণিত। বিল্লাল ও রেফায়েতের মায়ের বুক খালি করেছেন। কুলিয়ারচরের মানুষকে কষ্ট দিয়েছেন। নেতাকর্মীদের হাজার মামলা দিয়েছেন। রাজপথে অত্যাচার অবিচার করেছেন। আল্লাহ ছাড় দেন ছেড়ে দেন না। আজকে শেখ হাসিনা কোথায়। ক্ষমতা দাম্ভিকতায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ট্যাক্সের টাকা লুটপাট করে পাচার করেছিল। স্বৈরাচার বেশিদিন টিকতে পেরেছে এর কোন ইতিহাস নেই।
রেফায়েত বিল্লাল কুলিয়ারচরের ঘরে রয়েছে। মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে। গত ১৭ বছরের ভৈরব কুলিয়ারচরের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন আমি দেখিনি। যদি সুযোগ পায় বিএনপি যদি সরকার গঠন করে আমি ভৈরব কুলিয়ারচরের ব্যাপক উন্নয়ন করবো। এ সময় তিনি বলেন, আমি কুলিয়ারচরে প্রতিটি অবহেলিত নেতাকর্মীদের বাড়ি আমি চিনি। আমি বেঁচে থাকলে প্রতিটি নেতাকর্মীদের খবর নিবো। দেশকে ধ্বংস করতে দেশে বিদেশের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এ দেশের স্বাধীনতার সার্বোভোমত্ত্ব রক্ষা করতে সজাগ থাকতে হবে। আপনার সজাগ থাকবেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন গত ৩১ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিল্লাল হোসেন ও রেফায়েত উল্লাহ তনয় নামে ২ বিএনপি নেতা নিহত হয়। হামলায় কুলিয়ারচর থানার ওসি ও ১৫ পুলিশ সদস্যসহ বিএনপি’র অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশর মানুষের কথা চিন্তা করে ৩১ দফা দাবি দিয়েছেন। এ দেশে বৈষম্য যেন দুর হয়। কৃষক শ্রমিক জনতাসহ সকল মানুষ যেন দ্রব্যমূল্য ন্যায্য দামে পায়। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ করা যায়। এ দেশে যেন আইনের শাসন নিশ্চিত হয়।