সফিকুল ইসলাম রিংকু:
ঐতিহ্যবাহী ৩৪ নং ভানুড়পার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এখন ঝুকিপূর্ণ। পাঠ চলাকালে ঝুঁকিতে থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবন।শিক্ষক কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উদাসীনতায় বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশা। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়টির দুরবস্থার চিত্র।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩ নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের আওতাধীন ৯ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত ভানুড়পার গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ৩৪ নং ভানুড়পার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুকিপূর্ণ ভাবে পাঠদান করানো হচ্ছে।
বিদ্যালয়টির ভূমিদাতা সদস্যরা জানান ১. মো: ফজলুল হক, ২. তাজু বকাউল ৩. মকবুল মিয়াজি ৪. দেলোয়ার প্রধান গং মোট ৩৩(তেত্রিশ) শতাংশ জায়গা এই স্কুলের জন্য দান করেন এবং এবং উক্ত ৩৩ শতাংশ জায়গায় ১৯৯১ সালের দিকে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘ তিন যোগেও স্কুলটির তেমন কোন উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো নয়।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: কাজল মিয়াজি বলেন, স্কুলের এখন পর্যন্ত কোনো খেলার মাঠ নেই, স্কুলটি ঝুঁকি পূর্ণ অবস্থায় আছে, বিভিন্ন যায়গায় ভবনটির ফাটল ধরেছে, স্কুলের বারান্দা থেকে মাঠের গভীরতা প্রায় তিন/চার ফুট নিচু, ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা বারান্দা থেকে পড়ে প্রায় সময় আহত হচ্ছে। পাশে খাল থাকায় বাচ্চাদের পানিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম জানান, স্কুলে পাঠদান করানোর কোনো পরিবেশ নাই, স্কুলের ভবন পুরনো হওয়াতে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পাঠদান কারাতে হয়। স্কুলের মাঠ স্কুলের বারান্দা থেকে অনেক নিচু হওয়াতে ছোট ছোট বাচ্চারা পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। স্কুলের মান-সম্মত কোন টয়লেট নেই , পানির কল নেই, চতুর্দিকে বাউন্ডারি না থাকায় শিক্ষার্থীরা ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। বর্ষার সময় পানি উঠে যায় স্কুলে এবং পানিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ তিন যোগ পরেও স্কুলের এই অবস্থায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী মর্মাহত।
এ বিষয়ে ৩ নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব ইকবাল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনিও অবগত আছেন এই বেপারে। স্কুলের কোন বরাদ্দ না থাকায় এই ব্যায় বহুল কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না, তিনি জানান অতি শিগগিরই উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
এলাকাবাসী, স্কুল কমিটি, অভিভাবক এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, স্কুলের পড়ালেখার মান উন্নয়নে শিক্ষক বৃদ্ধি, মানসম্মত পড়ালেখা, স্কুলের নতুন ভবন, মাঠ এবং বাউন্ডারি না হলে এই স্কুলে শিক্ষার্থীর হার কমে যাবে, নতুন করে আর ভর্তি হবেনা, তাই অতি শিগগিরই উর্ধতন কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।