পিরোজপুর সংবাদদাতা:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পূর্ব শত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী হামলায় মুবিন (২৩) নামে এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন তার সহপাঠী তামিম (২৩)। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে মুবিনের মৃত্যু হয়। আহত তামিম একই হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত মুবিন মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মঠবাড়িয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ডা. ইদ্রিস আলী মহারাজের পুত্র। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শামীম মিয়া মৃধার ভাগিনা হিসেবেও পরিচিত। আহত তামিম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবিরের পুত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিউমার্কেট এলাকায় দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। বকসির ঘটিচোরা এলাকার মো. রফিকুল ইসলাম রনি (৩০), যিনি খোকন মোক্তারের পুত্র, তার নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে মুবিন ও তামিমের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে মুবিনের মাথায় ও তামিমের পেটে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুবিন মৃত্যুবরণ করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মঠবাড়িয়া পৌর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হামলাকারীদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।