নিজস্ব প্রতিনিধি:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে স্থবির হয়ে পড়েছে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক বৈঠক কার্যক্রম। গত ১১ মাস ধরে জিরো পয়েন্টে দুদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে কোনোরূপ আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা, বাড়ছে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা।
সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ঢাকা-দিল্লির রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। সেই প্রভাব পড়েছে সীমান্তবর্তী স্থলবন্দর কার্যক্রমেও। বেনাপোল-পেট্রাপোলের মাঝামাঝি জিরো পয়েন্টে প্রতি মাসে নিয়মিত দুদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে যেসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো, তা গত বছরের আগস্ট থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
বাণিজ্যিক সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব বৈঠকে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার তাৎক্ষণিক সমাধান হতো। এখন বাধ্য হয়ে হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হচ্ছে, যা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
সাবেক ও বর্তমান ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, আগের মতো প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সীমান্ত পারাপারের সুযোগ না থাকায় পারস্পরিক বোঝাপড়ার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় জটিলতা আরও প্রকট হয়েছে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন বৈঠক বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক জটিলতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দ্রুত আবার নিয়মিত বৈঠক শুরুর কোনো বিকল্প নেই।”
সংগঠনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, “বেনাপোল দিয়ে ভারত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়। এই বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য সচল রাখতে মাসিক বৈঠক অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
বেনাপোল স্থলবন্দরের ট্রাফিক পরিচালক শামিম হোসেন জানান, “ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তবে প্রতিনিধি দলের বৈঠক গত বছরের আগস্টের পর থেকে আর হয়নি। এতে কিছু সমস্যা সমাধানে বিলম্ব হচ্ছে।”
অন্যদিকে, বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক খালাসে ‘বকশিশ’ এর নামে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে, যা বাণিজ্য আরও জটিল করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বাণিজ্য সচল রাখতে দ্রুত উভয় দেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু করা হোক।