নিউজ ডেস্ক :
রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সৃষ্টি করেছে। আজ (সোমবার) দুপুর ১টা ১৬ মিনিটে উত্তরার ‘উত্তরা উত্তর’ মেট্রোরেল স্টেশনের পেছনে অবস্থিত কলেজ ভবনের ক্যান্টিনের ওপর বিমানটি সরাসরি আছড়ে পড়ে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী ও বিমানসেনাসহ বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আচমকা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তারা। এরপরই আগুনে জ্বলে ওঠে বিমানটি এবং মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার। শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ছুটোছুটি শুরু করে, জনমনে সৃষ্টি হয় তীব্র শোক ও উদ্বেগের।
বিমান বিধ্বস্তের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনায় বিমানসেনা ও মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীসহ অন্যান্যদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। জাতির জন্য এটি একটি গভীর বেদনার ক্ষণ।”
তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও উদ্ধারকাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, “সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করবে।”
দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। এলাকাজুড়ে জনতার ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা গোটা জাতির হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। নিরাপদ আকাশসীমা ও জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের যথোপযুক্ত নীতিমালা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে।