নিজস্ব প্রতিনিধি :
উত্তরার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিশু তাসমিন আফরোজ আয়মানকে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। মরদেহ নারায়ণপুর গ্রামে পৌঁছতেই নেমে আসে শোকের ছায়া। আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় অ্যাম্বুলেন্সে করে পৌঁছায় উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়মানের নিথর দেহ। তাকে একনজর দেখার জন্য ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামের শত শত মানুষ। বাদ এশা নারায়ণপুর হাওলাদার বাড়ি জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় আয়মানকে। তাকে কবর দেওয়া হয় তার দাদার কবরের পাশে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আয়মান তিন বোনের মধ্যে সবার বড়। বয়স মাত্র ১০ বছর। সোমবার স্কুল শেষে মাঠে দোলনায় খেলছিল সে। ঠিক তখনই ঘটে বিমান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক ঘটনা। আহত অবস্থায় ছুটে যায় এক স্কুল শিক্ষিকার কাছে। পরে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ভর্তি করা হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে মৃত্যু হয় ছোট্ট আয়মানের।
আয়মানের মামা শামীম আহমেদ বলেন, “মায়ের একমাত্র ভরসা ছিল আয়মান। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। গ্রামে ঈদ আর আনন্দ অনুষ্ঠানে সে আসত। সবার প্রিয় ছিল। আজ তাকে ঘিরেই জমেছে মানুষ, তবে আনন্দ নয় শোক আর কান্নায়।”
নানা নিজাম মন্দুকছি জানান, “আয়মান খুবই মেধাবী, শান্ত স্বভাবের এবং সবার আদরের ছিল। তার এমন করুণ মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “এই শিশুর মৃত্যু কেবল এক পরিবারের শোক নয়, এটি একটি সমাজের বিবেককে নাড়া দেয়। দায় কে নেবে এই মৃত্যুদের?”
আয়মানের বাবা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বাপ্পি হাওলাদার ও মা আয়েশা আক্তার কানন বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এখনো পরিবার শোকে বিমূঢ়।
উল্লেখ্য, উত্তরায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা কেবল একটি প্রাণহানির ঘটনা নয়; বরং এটি একটি শিশু স্বপ্নের অপমৃত্যু। আয়মানের জন্য সমাজের প্রতিটি হৃদয়ে থাকা উচিত দোয়া ও দায়বদ্ধতা।