ইয়াহিয়া খান সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপির দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৫ বর্জন করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের এক পাশে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ও অরেক পাশে শিক্ষার্থীরা পৃথক পৃথক ব্যানার নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেন।
২৬ জুলাই শনিবার সকাল ১০টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন ৩ এর সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১ ঘন্টা ব্যাপী এই মানববন্ধন চলাকালে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ, সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল মাসুদ প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন, সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় সরকার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আলী, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজ প্রমুখ।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আজ আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি নানা আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশে পালন হতে পারত। অথচ আমরা আজ রাজপথে অবস্থান নিয়েছি। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনে সরকারের উদাসীনতা আমাদের আজ এখানে দাঁড় করিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনে যাদের গাফিলতি আছে, তাদের সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে পরিবেশের দোহাই দিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাঁধা দেওয়ার কারণে তার পদত্যাগ দাবী করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ নয় বছর ধরে ধুঁকছি, আর নয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজস্ব জমিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে এমন টালবাহানা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াতসিংহ শুভ বলেন, এ পর্যন্ত এই ডিপিপি সাতবার সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগ যখন যে তথ্য-প্রমাণক চেয়েছে, আমরা সরবরাহ করেছি। ইতোমধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১০০ একর ভূমি ব্যবহারে অনাপত্তি পত্র ডিপিপির সঙ্গে সরবরাহ করা হয়েছে। এতকিছুর পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপির অনুমোদন না হওয়ায় আমাদের মনে নানাবিধ শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমরা মনে করছি, এর পিছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত আছে। তাদের খুজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
কর্মকর্তাবৃন্দের মধ্যে সহকারী রেজিস্ট্রার শেখ আল মাসুদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা নোবেলবিজয়ী বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপির অনুমোদনের দাবিতে আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হয়েছে, এটি হতাশার। আমরা এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করি।
শিক্ষার্থীদের মানবন্ধনে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাকারিয়া হোসেনের বক্তব্যে বলেন, আমাদের রক্তের ওপর দিয়ে এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়া করা ভবনে চলছে। এটি কেবল আমাদের জন্য নয়, সমস্ত দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য লজ্জার। আমরা এর আগেও রাজপথে ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়েছি। সরকারের আশ্বাসে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে এসেছিলাম। তবে এবার সমাধান না নিয়ে রাজপথ থেকে ফিরছি না। তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ডিপিপির অনুমোদন না হওয়ার পিছনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবী করেন। তিনি আরও বলেন, আমাদেও দাবী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর থেকে আরও কঠোরতর কর্মসূচি দিয়ে উত্তরবঙ্গেও সাথে ঢাকা সহ সারা দেশের রেল ও সড়কপথ বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ কর্মসূটি পালন করবো। তিনি অবিলম্বে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দ্রুত ডিপিপি অনুমোদনের জোর দাবী জানান।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ব্যবস্থা হয়েছে ঠ্যালাগাড়ির মতো, ধাক্কা না দিলে চলে না। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যলয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে হয়, এটি সভ্য সমাজের জন্য লজ্জার। তিনি আরও বলেন, আমাদের ডিপিপি একনেকে অনুমোদন পায়নি উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের জন্য। একনেক সভার সকলেই ডিপিপি অনুমোদনে সম্মত হলেও তিনি বললেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প অঞ্চল পরিদর্শন করে তাঁর মত জানাবেন। তিনি সরেজমিনে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে গেলেন এবং প্রতিবেদন জমা দিলেন। এরপর একটির পর একটি একনেক সভা পেরিয়ে যায় আমাদের ডিপিপি এজেন্ডাভুক্ত হয় না। এর জন্য এই উপদেষ্টাই দায়ী। আমরা ডিপিপির অনুমোদন চাই এবং এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় সরকার তার বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপির অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে আমরা সড়ক ও রেল পথ অবরোধ সহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান আলী বলেন, এই সরকার আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমাদের বার বার আশ্বাস দিলেও প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুমোদন করছে না। আর আশ্বাস নয়, চূড়ান্ত ফয়সালা নিয়ে রাজপথ ছাড়বো।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা বলেন, ক্যাম্পাসহীনতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে হীনম্মন্যতা সৃষ্টি করে। আমারা ক্যাম্পাসের সকল সুবিধা নিয়ে দেশের জন্য জনসম্পদ হিসেবে তৈরি হতে চাই।