আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের আসাম রাজ্যে স্থানীয় মুসলিমদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বুলডোজার চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রদেশজুড়ে পরিচালিত এই অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শত শত মুসলিম পরিবারের ঘরবাড়ি। রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য।
আসন্ন রাজ্য নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমটি। অভিযানে মূলত বাংলাভাষী মুসলমানদের টার্গেট করা হচ্ছে, যাদের অনেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আরান আলি রয়টার্সকে বলেন, “সরকার বারবার আমাদের হয়রানি করছে। আমাদের বিদেশি বলা হচ্ছে। অথচ আমি আসামে জন্মেছি।”
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিমা শর্মা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ভারতের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তার ভাষ্য, “সীমান্ত দিয়ে মুসলিম অনুপ্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হলেও কয়েকটি জেলায় এখন হিন্দুরাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে।”
আসাম রাজ্য বাংলাদেশের সঙ্গে ২৬২ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। এই ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বিশেষ করে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও সংখ্যালঘুর মতো আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী আসামের ৩ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম। ২০২১ সালে বিজেপি নেতা হিমন্ত মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অন্তত ৫০ হাজার মুসলিমকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই উচ্ছেদ অভিযান এক ধরনের ‘জাতিগত নির্মূল কার্যক্রম’, যেখানে পরিচয়ের ভিত্তিতে নিরীহ জনগোষ্ঠীকে দেশান্তরিত করার নীতিগত প্রয়াস চলছে।