নিজস্ব প্রতিনিধি :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একাধিক পোস্টে একজন বৃদ্ধের ছবি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনে সহিংসতায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে প্রায় ১২০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ছবির সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনগুলোতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “এই বৃদ্ধ লোককে দেখে কি মনে হয় তিনি ছাত্রদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িত ছিলেন?”
তবে রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ ও অন্যান্য ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এই দাবি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন।
যাঁর ছবি ভাইরাল হয়েছে, তিনি ইদ্রিস শেখ নামে পরিচিত। তাঁর বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। তবে তাঁকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত থাকার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
প্রকৃতপক্ষে, ইদ্রিস শেখ ২০০৩ সালে পাবনার সুজানগর উপজেলায় একটি পারিবারিক বিরোধ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত হন। সেই মামলায় তিনি বর্তমানে কারাবন্দি। অর্থাৎ, এটি দীর্ঘদিন আগের একটি ঘটনা, যার সঙ্গে সাম্প্রতিক কোনো ছাত্র আন্দোলনের সম্পৃক্ততা নেই।
একজন উচ্চবয়সী ব্যক্তির ছবিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা সামাজিক ইস্যুতে মিথ্যা প্রচার চালানো শুধু যে তথ্য বিকৃতি তা-ই নয়, বরং তা জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়াতে পারে। এই ধরনের কর্মকাণ্ড সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো ভাইরাল ছবি বা তথ্য শেয়ার করার আগে বিশ্বস্ত সূত্রে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম যেমন রিউমর স্ক্যানার, বাংলা ফ্যাক্ট প্রভৃতি অনুসরণ করলে সত্য-মিথ্যা নিরূপণ করা সহজ হয়।
একজন বৃদ্ধ কারাবন্দির পুরনো ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মিথ্যা যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এটি একটি স্পষ্ট অপপ্রচার, যা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিহত করা জরুরি।