এস,এম, রুহুল তাড়াশী
স্টাফ রিপোর্টার :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যেন নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। জনসেবার উজ্জ্বল মানসিকতা ও আন্তরিক নিষ্ঠায় তাড়াশের নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান অল্প সময়েই নাগরিক হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তার কর্মদক্ষতা ও সৌজন্যময় ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে উপজেলার প্রশাসনিক চিত্র, ফিরছে আস্থা ও গতিশীলতা।

সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ-সমালোচনার কোলাহল শোনা যায় ঘনঘন। কিন্তু নুসরাত জাহান সেই প্রচলিত ধারার বাইরে এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। স্নিগ্ধ মুচকি হাসিতে ভরা তার আচরণে মানুষ খুঁজে পায় আশ্বাসের সান্ত্বনা, আর নিষ্ঠাবান কর্মপ্রচেষ্টায় মেলে সেবার স্বস্তি।
২০২৫ সালের ৩ জুন তিনি নির্বাহী অফিসার হিসেবে তাড়াশে যোগদানের পর থেকেই সততা, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতার অনন্য সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মাঠ প্রশাসনের বাড়তি চাপ সামলানো যেখানে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানেই তিনি দক্ষ হাতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ—দু’য়ের ভারসাম্য রক্ষা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন দৃঢ়তায়। কাজের এ বহুমাত্রিক চাপ সত্ত্বেও তাড়াশের সেবার মান যেন দ্রুত নতুন রূপে সঞ্জীবিত হচ্ছে।
তার উদ্যোগের তালিকা দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি, যা জনমানসে স্বস্তির আবহ ফিরিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নকলমুক্ত কেন্দ্র গঠন করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে স্থাপন করেছেন অনন্য নজির। জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধন ও দ্রুত নিবন্ধন কার্যক্রমে তার আন্তরিক প্রচেষ্টা মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করেছে।
জনসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এই তরুণ প্রশাসক নুসরাত জাহান নিজেই বলেন,
“কর্মকর্তা হলো জনগণের সেবক। যেখানে দায়িত্ব পালন করেছি, সর্বদাই নাগরিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। যেদিন তাড়াশে যোগদান করেছি, সেদিনই বলেছিলাম, এই উপজেলা আমার। যতদিন এখানে আছি, প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাব। সকলের সহযোগিতায় তাড়াশকে আধুনিক, আলোকিত ও নাগরিকবান্ধব উপজেলায় রূপান্তরিত করতে চাই।”
তাড়াশের জনজীবনে প্রশাসনিক সেবার যে নবতর জাগরণ সৃষ্টি হচ্ছে, তার অগ্রনায়ক আজ নির্বাহী অফিসার নুসরাত জাহান। মানুষ তাই তাকে একবাক্যে বলছে, “প্রশাসনের গর্ব, তাড়াশের আলোকবর্তিকা।”