কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে ‘মিশন ইম্পসিবল’ সিনেমার নতুন কিস্তি ‘মিশন: ইম্পসিবল – দ্য ফাইনাল রেকনিং’। ট্ম ক্রুজ অভিনীত এই সিরিজ মুক্তির জন্য ভক্তরা প্রতিবারই অপেক্ষায় থাকেন। আর এবার নতুন সিনেমার মুক্তি কেন্দ্র করে নতুন আলোচনায় সিনেমাটির প্রচার কৌশল।
২০০৬ সালে মুক্তির আগে মিশন ‘ইম্পসিবল থ্রি’র প্রচারণা নিয়ে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। দর্শকদের চমকে দেয়ার জন্য পরিকল্পিত এই স্টান্টই পরিণত হয়েছিল শহরজুড়ে বোমা আতঙ্কে। লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন সংবাদপত্রের র্যাকে রাখা হয়েছিল ছোট লাল রঙের মিউজিক বক্স, যা খোলা মাত্র বাজতে শুরু করত মিশন ইম্পসিবলের বিখ্যাত সং । কিন্তু কয়েকটি যন্ত্রপাতি কাগজের ওপর চলে আসায় সাধারণ মানুষ সেখানে দেখতে পান তার লাগানো লাল বাক্স। অনেকে ভেবেছিলেন এগুলো বোমা।
তৎকালীন পরিস্থিতি ছিল বেশ সংবেদনশীল। কারণ ৯/১১ হামলার ঘটনাটি নিয়ে মানুষ তখনও ভয়ে ছিল। ফলে সন্দেহজনক বক্স দেখেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পথচারীরা। একজন নাগরিক সরাসরি ৯১১–এ ফোন করে জানান, তিনি হয়তো একটি বোমা খুঁজে পেয়েছেন।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ও বোম্ব স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিছু র্যাক পর্যন্ত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয় সতর্কতার অংশ হিসেবে। ওয়েস্ট এলএ–র ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স মেডিকেল সেন্টারের বাইরে একটি লাল বাক্স উদ্ধার হলে ৩০০ জনকে হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিতে হয়। পরে জানা যায়, শহরের প্রায় ৪,৫০০ র্যাকে রাখা হয়েছিল এই মিউজিক বক্স।
এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, শুধু ওই দিনই তাদের ক্ষতি হয়েছে ৯২ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী অ্যাটর্নি প্যারামাউন্ট ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস–কে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠান এবং ফেডারেল মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন। অভিযোগ ছিল বেপরোয়া আচরণ এবং সরকারি হাসপাতালে কোড রেড পরিস্থিতি তৈরির দায়। যদিও পরবর্তীতে মামলাটি বাতিল হয়ে যায়, তবে স্টুডিওর জন্য এটি ছিল বিরাট বিব্রতকর অভিজ্ঞতা।