এস,এম,রুহুল তাড়াশী
স্টাফ রিপোর্টার:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার চলনবিল এলাকায় অবাধে চলছে শামুক-ঝিনুক নিধন। স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীরা প্রতিদিন বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন। উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে পরিচিত এসব প্রাণী নিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষাকালে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলে শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ।
এবার বর্ষার পানি দেরিতে নামায় কাজ চলবে আরও এক মাস। তাড়াশের কামাড়শোন, দিঘী সগুনা, কুন্দইল, কামারশোন, বিল-নাদো,ধামাইচঘাট, মান্নান নগর, ঘরগ্রাম, মাগুরা বিনোদ, হামকুড়িয়াসহ অন্তত ২০-২৫টি এলাকায় প্রায় ৫০০ নৌকায় স্থানীয়রা প্রতিদিন শামুক-ঝিনুক সংগ্রহ করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন টন শামুক-ঝিনুক বিল থেকে তোলা হচ্ছে।প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।
এসব শামুক স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিনে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মাছের খামারে খাদ্য হিসেবে সরবরাহ করছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী চলনবিলে প্রতিবছর কোটি টাকার শামুক কেনাবেচা হয়।
শামুক সংগ্রহকারী মোতালেব হোসেন জানান, “বর্ষায় চাষাবাদ বন্ধ থাকে, তখন শামুক সংগ্রহ করেই জীবিকা চালাতে হয়। প্রতিদিন এতে ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়।
ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, “২০-২৫ জন ব্যবসায়ী এ পেশায় জড়িত। বর্ষার তিন-চার মাস শামুক কিনে পাইকারি বাজারে বিক্রি করা হয়।”
তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, “২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হলেও এ আইন মানা হচ্ছে না। শামুক জলাশয়ের পানি বিশুদ্ধ করে এবং মিঠাপানির মাছের খাদ্য জোগায়। কিন্তু নির্বিচারে নিধনে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “শামুক-ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। সচেতনতা বাড়া নো হবে এবং প্রয়োজনে সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”