যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ইসরাইল বাধা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, সীমিত প্রবেশপথ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক জটিলতা ত্রাণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। গতকাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির এক মাস পেরিয়ে গেলেও ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নানা জটিল প্রক্রিয়া, মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা, সীমিত প্রবেশপথ ও অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি জানান, ‘কিছু এলাকায় আমাদের দলকে এখনো প্রতিবার চলাচলের আগে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়।’ ফারহান হক বলেন, ‘গত সপ্তাহে ত্রাণ পাঠানোর আটটি প্রচেষ্টা চালানো হলেও তার মধ্যে কেবল দুটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে অনুমোদন দেয় ইসরাইল। বাকি চারটি পথে বাধাগ্রস্ত হয়Ñ এর একটি ক্ষেত্রে অনুমতি পেতে দলটিকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘চলমান প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো সব সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’ বেশি সংখ্যক সীমান্তপথ খুলে দেওয়ার বিষয়ে দেরির কারণ জানতে চাইলে ফারহান হক বলেন, ‘সমস্যাটা ইসরাইলি পক্ষেই। আমরা তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করছি যাতে আরও বেশি প্রবেশপথ খোলা যায়, কিন্তু এখনো তারা তা করেনি।
এদিকে, চলমান যুদ্ধবিরতিতে গাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা স্থিতিশীলকরণ বা আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগদান করা নিয়ে নেতিবাচক অবস্থানে আছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র ও অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত। গাজা স্থিতিশীলকরণ বাহিনীতে যোগ না-ও দিতে পারে দেশটি। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ আজ রাজধানী আবুধাবিতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত এই বাহিনী নিয়ে পরিষ্কার ফ্রেমওয়ার্ক দেখতে না পাওয়ার কারণেই এই অবস্থান নিয়েছে আমিরাতের সরকার। ‘প্রস্তাবিত স্থিতিশীলকরণ বাহিনী নিয়ে এখনও আমিরাত কোনো পরিষ্কার ফ্রেমওয়ার্ক দেখতে পাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতি যদি চলেÑ সেক্ষেত্রে সম্ভবত আমিরাত এই বাহিনীতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে,’ বলেছেন গারাগাশ। গত ২৯ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন যে প্রস্তাব পেশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইল এবং গাজা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস তাতে সম্মতি জানানোর পর ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গাজায়। ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে গাজা স্থিতিশীলকরণ বাহিনীতে বহু দেশ সেনা পাঠানোর আগ্রহ জানিয়েছে, তবে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ বলেছে, গাজায় সেনা পাঠানোর অর্থ যদি হয় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ করাÑ তাহলে তারা সেনা পাঠাতে আগ্রহী নয়। সূত্র : আনাদোলু, টাইমস অব ইসরাইল।