দিল্লি বিস্ফোরণকে ‘ষড়যন্ত্রের ফল’ বলে দাবি করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভুটান সফরে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বে, আর যারা এর নেপথ্যে রয়েছে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
দুই দিনের সফরে সকালে ভুটানে পৌঁছান মোদি। প্রতিবেশী দেশে গিয়েও দিল্লির সাম্প্রতিক ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। থিম্পুর এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে এখানে এসেছি। গতকাল সন্ধ্যার দিল্লির ঘটনা আমাদের সকলকে ব্যথিত করেছে। সারারাত আমি বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তদন্ত সংস্থাগুলি এই ষড়যন্ত্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছবে। যারা দায়ী, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।”
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান মোদি। বলেন, “এই কঠিন সময়ে গোটা দেশ শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে আছে।”
মোদির বক্তব্যের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহও একই সুরে বলেন, লালকেল্লার সামনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। যদিও এখনও বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত সংস্থাগুলি জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্ত শেষ হলেই এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে মোদি ও রাজনাথের মন্তব্যে স্পষ্ট—সরকার নাশকতার তত্ত্বকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার সামনে একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণে ১২ জন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর এনআইএ, এনএসজি-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্তে নেমেছে। গাড়ির মালিক মহম্মদ সলমনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে, পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে আরও চারজনকে।
ভুটানের চতুর্থ রাজার ৭০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে মোদি এই সফরে গেছেন। সফরকালে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, চতুর্থ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক এবং প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তিনি। ভারত-ভুটান যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১০২০ মেগাওয়াট পুনাতসাংচু-২ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধনও করার কথা রয়েছে তাঁর।
মোদি সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর ভারত-ভুটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন গতি আনবে।