ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিশুদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে শুরু হয়েছে বেসরকারিভাবে বৃত্তি পরীক্ষা। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় পৌর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভৈরব উপজেলার ৬৩টি স্কুলের ৫৩৩জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সার্বিক সহযোগিতায় পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা পরিচালনা করতে ভৈরবের বেসরকারি স্কুল সমূহের সিদ্ধান্তে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছিদ্দিকুর রহমানকে আহ্বায়ক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী রেজাউল হাসানকে সদস্য সচিব করে বেসরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার কমিটি গঠন করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর সোমবার প্রথম বাংলা পরীক্ষা ও পর্যায়ক্রমে ১৭, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর বাকি পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সকাল থেকে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পরিক্ষায় অংশগ্রহণ ও অবিভাবকদের বিদ্যালয় গেটে উপস্থিতির মাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। পরীক্ষার চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. মামুনুর রশিদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছিদ্দিকুর রহমান, সদস্য সচিব ও শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী রেজাউল হাসান, পৌর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক এম এ মোহিত, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ জাহিদুল হক জাবেদ, ভৈরবের বেসরকারি স্কুল সমূহে পক্ষে দায়িত্বে থাকা ব্লু-বার্ড কিন্ডারগার্টেন এর পরিচালক সাংবাদিক সুমন মোল্লা, উদয়ন স্কুল এর পরিচালক সাগর রহমান প্রমুখ।
অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণে খুশি হলেও তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শুধু কি সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষার্থীদের মেধা আছে? দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করে দেশের সরকারি দায়িত্ব পালন করছে। শিশুদের সাহস বৃদ্ধি ও মেধা যাচাইয়ে জন্য সরকারকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া দরকার ছিল। বেসরকারি স্কুলে পড়ে বলে কি আমাদের সন্তানরা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আমরা চাই সরকার আগামী দিনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের জন্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে।
এ দিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা সরকারিভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা সুযোগ পাইনি। তবে বেসরকারিভাবে আজকে প্রথম বাংলা পরীক্ষা দিয়েছি। আশা করি আমরা বৃত্তি পাবো। আমরা চাই আমাদের মতো যেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। সরকার আগামীদিনের শিক্ষার্থীদের যেন সরকারিভাবে বৃত্তি পরীক্ষার সুযোগ করে দেন।
হল সুপার ও ব্লু-বার্ড কিন্ডারগার্টেন পরিচালক সুমন মোল্লা বলেন, এই বছর বেসরকারি স্কুলগুলোকে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই কারণে ভৈরবের বেসরকারি স্কুল সমূহের উদ্যোগে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার থেকে ভৈরব পৌর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্কুলে বাংলা পরীক্ষার মাধ্যমে ভিত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১৭, ১৮ ও ২০ ডিসেম্বর বাকি পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় ভৈরবের ৬৩টি স্কুলের ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। আমরা চেষ্টা করেছি সরকারি নিয়ম মেনে পরীক্ষা পরিচালনা করার।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের দায়িত্বে থাকা উদয়ন স্কুল এর পরিচালক সাগর রহমান জানান, শিশুদের বৈষম্য থেকে দূরে রাখতে আমাদের বেসরকারিভাবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে হয়েছে। শিশুদের অধিকার নিরপেক্ষতা আজ ভেঙে পড়েছে। সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছে। সারা দেশে অসংখ্য বেসরকারি স্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা আজ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। সকল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ মূলক পরীক্ষা বিগত বছরগুলোতে পরিচালিত হয়েছিল। তখন শিশুদের মেধা যাচাইয়ে সুযোগ ছিল। বেসরকারি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। আমরা ভৈরব ৬৩টি স্কুল ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিশুদের মেধা যাচাইয়ে জন্য শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের উজ্জীবিত রাখতে (স্থানীয়ভাবে) বেসরকারিভাবে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তাদের তৈরি প্রশ্ন ও নিরপেক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা চাই সরকার আগের মতো সরকারি ও বেসরকারি সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি বৈষম্যহীন পরীক্ষার আয়োজন করুক।
পরিদর্শনে আসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি দুইটিই একে অপরের পরিপূরক। বেসরকারিভাবে যেমন সরকারকে সহায়তা করা হয়। আবার যেখানে বেসরকারি সহায়তা পৌঁছাতে পারে না সেখানে সরকারিভাবে সহায়তা করা হয়। আজকে ভৈরবের ৬৩টি স্কুলের ৫৩৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। খুব সুন্দরভাবে পরীক্ষা হচ্ছে। যেভাবে একটি বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন করা দরকার তেমনভাবেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। এটি সারা দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। উপজেলা প্রশাসন সর্বদা শিক্ষার্থীদের পাশে আছে ও থাকবে।