নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বরাবর আবেদনপত্র হস্তান্তর করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা না করার এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির—এ কথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ জানান, সকালে মন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি কার্যকর হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল পদ-উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে প্রত্যাবর্তনের আবেদন করেছেন।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে মতবিনিময় করেন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষামন্ত্রী একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অবদানের জন্য উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান এবং শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২৭ আগস্ট তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তখন তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের একটি পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে এবং উপযুক্ত সময়ে সরে দাঁড়াতে চান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার চাইলে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতেও তার আপত্তি নেই বলে জানান।
১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণকারী অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, সোয়ানসি থেকে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উন্নয়ন, নীতি-গবেষণা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদান রেখেছেন।
পদত্যাগপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।