নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আরও গতিশীল করে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকার ইতোমধ্যে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। ইতোমধ্যে সাড়ে সাত হাজার ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উদ্যোগে পাঁচ বছরে এক হাজার নতুন ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে দুই হাজার চারশ তরুণকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বর্তমানে ৮৩টি সরকারি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার পার্কগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং দেশে ‘পেপ্যাল’-এর কার্যক্রম শুরু করতে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় চাকরি প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মোবাইল অ্যাপ উন্নয়ন, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালিটিক্স ও সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী ও নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং সমসংখ্যক নারী উদ্যোক্তাকে আইসিটি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয় এবং প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।