নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য আরও গভীর হয়েছে। ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত সবুজ রানা (২৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় আরও দুই আসামি শহিদুল মণ্ডল (৫০) ও শাহিন মণ্ডল (৩৫)-কে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি দেন সবুজ রানা। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শুনানির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তি—বিশেষ করে জমি বণ্টন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সবুজ রানা।
গত সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা এবং তাদের দুই সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)। তাদের গলা কেটে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দিতে সবুজ রানা জানান, নানা নমির উদ্দিনের সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে ছিল। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মামা হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ঘটনার দিন দুপুরে সবুজ তার মামার সঙ্গে বাজারে যান এবং পরে বাড়িতে ফিরে আসেন। রাতের দিকে পরিকল্পনা অনুযায়ী শহিদুল ও শাহিনের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথমে ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয়, পরে ঘরে ঢুকে একে একে চারজনকে হত্যা করা হয় বলে জবানবন্দিতে উঠে আসে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তির লোভ ও দীর্ঘদিনের ক্ষোভই মূল কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
এই নির্মম ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক বিরোধ যদি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে তা কত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে—এই ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ।