আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। ইরানের পতাকাবাহী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড— ইউএস সেন্টকোম।
জব্দ করা জাহাজ তিনটির নাম ডিপ সি, সেভিন ও দোরেনা। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তিনটি জাহাজেই বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল।
যদিও জাহাজগুলো ঠিক কোথায় আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্র্যাফিক জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরের একটি এলাকায় অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে, যা ভারত, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা—এই তিন দেশের সামুদ্রিক সীমার কাছাকাছি।
জাহাজগুলোর অবস্থা
ডিপ সি: ইরানের একটি সুপারট্যাংকার, জব্দের সময় আংশিকভাবে তেলপূর্ণ ছিল। সর্বশেষ গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ার উপকূলে এর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেভিন: জব্দের সময় এতে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যা এর মোট ধারণক্ষমতার ৬৫ শতাংশ। এক মাস আগে সর্বশেষ মালয়েশিয়ার উপকূলে দেখা যায় জাহাজটি।
দোরেনা: তিনটির মধ্যে সবচেয়ে বড় চালান বহন করছিল এই জাহাজটি। এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল এবং এটি পুরোপুরি লোডেড অবস্থায় ছিল। সর্বশেষ তিন দিন আগে ভারতীয় উপকূল সংলগ্ন এলাকায় দেখা যায় দোরেনাকে।
পটভূমি: ব্যর্থ সংলাপ ও অবরোধ ঘোষণা
গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হয়। এর পরদিনই ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
১২ এপ্রিল দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে না আসা পর্যন্ত দেশটির বন্দর থেকে কোনো জাহাজ বের হতে পারবে না এবং বাইরের কোনো জাহাজও ইরানে প্রবেশ করতে পারবে না।
সেন্টকোমের দাবি
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকোম জানিয়েছে, অবরোধ ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানি বন্দর ছেড়ে যাওয়া ২৯টি জাহাজ ও নৌযানকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বিশ্লেষণ
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই এমন সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে—এটি কি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল, নাকি সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের পূর্বাভাস? ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এই অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতি এখনো দ্রুত পরিবর্তনশীল, এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।