আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ন্যাটোভুক্ত অনেক দেশ সামরিক সহায়তা, ঘাঁটি ব্যবহার কিংবা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দিয়ে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেনি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলের একাধিক অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বলা হচ্ছে, মিত্রদের কাছ থেকে ‘অ্যাকসেস, বেসিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট’ (এবিও) সুবিধা পাওয়া ন্যাটোর একটি মৌলিক প্রত্যাশা হলেও অনেক দেশ তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
স্পেনকে নিয়ে অসন্তোষ
এ অবস্থায় স্পেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। দেশটি জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওয়াশিংটনের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে স্পেনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
মার্কিন নীতি নির্ধারণী মহলে স্পেনের বিরুদ্ধে প্রতীকী কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা অন্য মিত্র দেশগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ইরান যুদ্ধের পর ৭৬ বছর পুরোনো সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংকটকালে মিত্র দেশগুলো কতটা কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে—এ প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানো নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, নৌ অবরোধ বা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া যুদ্ধকে আরও জটিল করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তা
পেন্টাগন ও ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলোকে কেবল আনুষ্ঠানিক জোট হিসেবে নয়, বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সংকটে পাশে না দাঁড়ালে জোটের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ন্যাটোর অভ্যন্তরে মিত্রতা, দায়িত্ব ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জোটের কাঠামো ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।