ভালোবাসা: এক নতজানু আলোর মহাকাব্য
৷৷৷ এ এস এ সোহেল ৷৷৷
ভালোবাসা-
কোনো সাধারণ অনুভব নয়,
এ এক অদৃশ্য মহাকর্ষ,
যেখানে হৃদয় নিজের কক্ষপথ হারিয়ে
অন্য এক হৃদয়ের চারপাশে ঘুরতে থাকে-
নিঃশব্দে, নিরন্তর, নিঃশেষে।
যখন প্রথম তুমি আমার ভেতরে জন্ম নিলে,
আমি বুঝিনি-
এ কি কেবল দৃষ্টির ক্ষণিক কম্পন,
নাকি আদিম কোনো সুরের পুনর্জাগরণ!
তোমার চোখে তখন নীলিমার মতো এক গভীরতা,
যেখানে ডুবে গিয়ে আমি আবিষ্কার করলাম-
নিজেকেই, নতুন করে।
ভালোবাসা মানে জয়ের উল্লাস নয়,
এ এক মধুর আত্মসমর্পণ
যেখানে অহংকার ধীরে ধীরে গলে যায়
বসন্তের রৌদ্রের মতো,
আর “আমি” শব্দটি নিঃশেষ হয়ে
“তুমি” হয়ে ওঠে একমাত্র উচ্চারণ।
তোমার স্পর্শে আমার সমস্ত ক্লান্তি
হঠাৎ নদীর মতো বয়ে যেতে থাকে,
তোমার কণ্ঠে আমি শুনি
অদৃশ্য কোনো আযানের আহ্বান-
যা ডেকে নেয় অন্তরের গভীরতম মসজিদে,
যেখানে সিজদাহ হয় কেবল অনুভূতির।
তুমি কি জানো-
তোমার জন্য অপেক্ষা করা মানে
সময়কে ধীরে ধীরে গলতে দেখা,
প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটি দীর্ঘ নিশ্বাস,
আর প্রতিটি নিশ্বাসে তোমার নামের উচ্চারণ।
ভালোবাসা কখনো সরল পথ নয়-
এ এক রহস্যময় অরণ্য,
যেখানে হারিয়ে যেতে হয় বারবার,
আবার খুঁজে পেতে হয়-
নিজেরই অপরিচিত রূপ।
তোমার চোখে যখন অশ্রু ঝরে,
আমার আকাশে নেমে আসে বৃষ্টি-
কোনো মেঘ ছাড়াই, কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই।
আর যখন তুমি হাসো,
আমার পৃথিবী ভরে ওঠে
অসংখ্য অদেখা ফুলের গন্ধে।
ভালোবাসা মানে কেবল কাছে থাকা নয়,
এ এমন এক বন্ধন-
যেখানে দূরত্বও হয়ে ওঠে নিবিড়,
নীরবতাও হয়ে ওঠে ভাষা,
আর অনুপস্থিতিও হয়ে ওঠে উপস্থিতির চেয়ে গভীর।
আমি তোমাকে ভালোবেসেছি-
যেন রাত ভালোবাসে তার তারা,
যেন সাগর ভালোবাসে তার গভীরতা,
যেন মানুষ ভালোবাসে তার সৃষ্টিকর্তার রহস্য।
এই ভালোবাসা কোনো শেষ জানে না,
কোনো সীমা মানে না-
এ এক অনন্ত যাত্রা,
যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে
আমরা একটু একটু করে হারিয়ে যাই,
আর ঠিক সেই হারানোর ভেতরেই
আমরা খুঁজে পাই-
চিরন্তন এক প্রাপ্তি।
তাই বলি-
ভালোবাসা মানে বেঁচে থাকা নয়,
ভালোবাসা মানে-
নিজেকে ধীরে ধীরে বিলীন করে
অন্য এক আত্মার ভেতরে
অমর হয়ে ওঠা।