বিনোদন ডেস্কঃ
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর প্রশাসনিক কাঠামোর দুই গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল হক ভূঞা এবং সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিউল ইসলামকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সিরাজুল হক ভূঞার প্রকাশিত বইয়ের বিষয়বস্তু কেন্দ্র করে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
জানা যায়, তার রচিত ‘স্মৃতি ও প্রকৃতি’ বইয়ে শেখ মুজিবকে নিয়ে একাধিক কবিতা রয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে ‘প্রকৃতি ও প্রেমের কথামালা’ বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন সহকর্মী শফিউল ইসলামকে, যিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এসব লেখনীর মাধ্যমে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিটিভির ভেতরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক মতামত প্রদান কতটা গ্রহণযোগ্য—তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, নিয়োগ-বাণিজ্য, পদোন্নতি ও বদলি নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। বিটিভির একাধিক সূত্র দাবি করেছে, তারা একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন শাখায় নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আত্মীয়স্বজনদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা প্রহরী, ট্রান্সমিশন টাইপিস্ট এবং প্রকৌশল শাখার পদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ঘনিষ্ঠদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিরাজুল হক ভূঞার বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। বলা হচ্ছে, রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনে তার একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নামেও বিলাসবহুল সম্পত্তির তথ্য সামনে এসেছে।
অপরদিকে শফিউল ইসলামের বিরুদ্ধেও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। অতীতে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে একাধিকবার শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিটিভির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সময় যারা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, তাদের মধ্যে এই দুই কর্মকর্তা এখনো বহাল রয়েছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে যথাযথ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।