আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে জোর প্রচারণা। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেই বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র। তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভারতীয় জনতা পার্টি-এর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই কটূক্তি ও আক্রমণের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন রূপাঞ্জনা। এসব মন্তব্যকে তিনি এতদিন উপেক্ষা করলেও ধর্ষণের হুমকি পাওয়ার পর আর নীরব থাকেননি। প্রচারণার ফাঁকে সামাজিক মাধ্যমে লাইভে এসে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
লাইভে রূপাঞ্জনা বলেন, “সাচ্চা বাঙালিকে ভয় দেখাতে আসবেন না। আপনারা তো চোখ দিয়েই ধর্ষণ করে দেন। এরপর আবার নির্লজ্জের মতো নারী সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তাকে নিয়মিতভাবে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে। এমনকি তার বয়স্ক মাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। পরিবারকে টার্গেট করে আক্রমণের ঘটনায় তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর চুপ করে থাকার কোনো প্রশ্নই নেই।
রূপাঞ্জনা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় মন্তব্য করা সহজ। সাহস থাকলে সামনে এসে বলুন—তখন বোঝা যাবে কার ক্ষমতা কতটা।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিশ্রমে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। একজন সফল নারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও এ ধরনের নিম্নমানের আক্রমণকে তিনি রাজনৈতিক বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
বিজেপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “নারী সুরক্ষা নিয়ে যারা কথা বলে, তারাই একজন নারীকে ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে—এতেই বোঝা যায় তাদের মানসিকতা কী। ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটাও স্পষ্ট।”
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, “এটি বিজেপির গুণ্ডা কালচারেরই বহিঃপ্রকাশ।” পাশাপাশি হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের কথাও জানান এই অভিনেত্রী।
রূপাঞ্জনা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে কখনোই অন্য কোনো সহিংসতার নজির বহনকারী রাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।