বরিশাল অফিসঃ
বরিশাল নগরীর অধিকাংশ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার ফুটপাত দখল করে গড়ে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এমনকি বিশেষ স্থানগুলোয় সরকারি রাস্তাও দখল করে নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা।

আবার কেউ কেউ ফুটপাত কিংবা রাস্তার ওপর ভাসমানভাবে অবস্থান নিয়ে গার্মেন্টেস সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বসে যাচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে যেমন ভোগান্তি হচ্ছে, তেমনই দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই রীতি দিয়ে বরিশাল শহরবাসীর মধ্যে চরমাকারে ক্ষোভ থাকলেও আওয়ামী লীগ শাসনামলে কোনো । ব্যবস্থা গ্রহণ লক্ষ্যণীয় ছিল না। ফলে বরিশাল শহরের ফুটপাতসহ রাস্তার ওপরে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পায়।
ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ রাস্তা অবমুক্তরণের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে নগরবাসী গরবাসী জে জোর দাবি জানিয়ে এলেও ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের যেন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
অবশ্য এজন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নির্লপ্ত থাকাকে দুষছেন, শহর উন্নয়ন নিয়ে চিন্তিত কজন। তাদের অভিযোগ, সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু বরিশাল শহরের ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ হয় না।
বরং এই দোকানগুলোকে কেন্দ্রে যখন যে রাজনৈতিক সরকার থাকে, সেই দলের নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় জনসাধারণ চলাচলে ফুটপাতগুলো দখল করা হয়। আবার কোথাও এও শোনা যায়, সরকারি রাস্তাসহ ফুটপাত বিক্রি।
রাজনীতির নমে এই ধান্ধাবাজি বন্ধ করতে হবে, যার উদ্যোগ সিটি করপোরশনকে গ্রহণ করতে হবে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদে সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল শহরের চকবাজার, দথিল চকবাজার, ফলপট্টি, গির্জামহ প্লা, সদর রোড, হাসপাতাল রোড, নতুন বাজার, বাংলা বাজার, সাগরদী বাজার, রূপাতলী, নথুল্লাবাদসহ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তার ফুটপাতগুলো ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা তাদের দখলে নিয়েছে স্থান । স্থানীয়রা জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের গত ১৬ বছর শাসনামলে প্রভাবশালী নেতারা ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করতে। ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ফুটপাতের দোকানিদের কমিটি করে দিয়ে সেই কমিটির নেতাদের মাধ্যমে চাঁদা তুলতেন ।
এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িও কম হয়নি। কিন্তু ওৎকালীন মেয়র বা বরিশাল সিটি করপোরেশন ফুটপাত দখলমুক্তকরণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
যদিও এম্যাকাওলোর বাসিন্দা ফুটপাত শাস- নামলে ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। এরপর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর সিটি করপোরেশনের নীরবতায় ফুটপাতের সঙ্গে রাস্তাও দখল নেওয়া হয়।
বিশেষ করে এই চিত্ত লক্ষার্থীর হয়, বাজার রোড, চকবাজার এবং ফলপট্টি-গির্জামহল্লায়। অবশ্য খোদ করপোরেশনের সম্মুখ ফজলুল হক অ্যাভিনিউ রোডের ফুটপাতও অনুরূপভাবে দখল হয়ে গেছে, আগের তুলনায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে বলা বাহুল্য, এই ফুটপাত দখল নিয়ে হকারদের সঙ্গে প্রায়ই পথচারীদের মধ্যে তর্কাতর্কিসহ হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে, যা থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে এমন অভিযোগও আছে।
আবার বরিশাল সিটি করপোরেশন বিভিন্ন সময়ে ফুটপাত দখলমুক্তকরণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়নের অতীত উদাহরণ ২ নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলছেন, ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিছুদিনে ফুটপাতসহ রাস্তা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর জন্য ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান করা জরুরি, করপোরেশনের তরফ থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক এতে সায় দিয়ে মাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এবং পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করলে তারাও আশ্বাস দিয়েছে। এখন দিনক্ষণ দেখে আকস্মিক এক দিন মোবাইল কোর্ট করে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করে ফুটপাত এবং রাস্তা দখলমুক্ত করা হবে।’