রাজধানীর দিয়াবাড়ির শান্ত দুপুর মুহূর্তেই রূপ নেয় এক হৃদয়বিদারক বিপর্যয়ে। সোমবার (২১ জুলাই) আনুমানিক ১টা ১৬ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের পাশেই অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের উপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন, ধোঁয়া ও বিভীষিকার করুণ দৃশ্য।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। বিমানটি নিচে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই কান্না, চিৎকার আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কলেজ ক্যাম্পাসজুড়ে। দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় বহু মানুষকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মাইলস্টোন কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান জানান, “আমি ক্লাস শেষ করে বাইরে বের হচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি ক্যান্টিনের পাশে প্রচণ্ড শব্দ, এরপর আগুন। মুহূর্তেই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।”
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। অসংখ্য আহতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। হাজারো মানুষ শোকে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বিধ্বস্ত ভবনের চারপাশে।
এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন,
“দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানি ও বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি জানাচ্ছি সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।