নিজস্ব প্রতিনিধি :
দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার ভবন দখল এবং প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মালিকপক্ষ ও সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিবাদ দেখা দিয়েছে। মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে, গত জুন থেকে ১০ কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী জোরপূর্বক জনকণ্ঠ ভবন দখল করে পেশীশক্তি ও মব ক্রুসির মাধ্যমে পত্রিকার ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করেছে। এ গোষ্ঠী দফায় দফায় ভবনে ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালিয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
দৈনিক জনকণ্ঠের সম্পাদক শামীমা এ খান নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-কে পাঠানো চিঠিতে বলেন, ‘গোষ্ঠীটি জনকণ্ঠ ভবনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা অবৈধভাবে পত্রিকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমরা এবং আমার দুই সন্তানকে ভবন থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে।’ তিনি নোয়াব ও প্রশাসনের তৎপর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অন্যদিকে, পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্মচারীরা মালিকপক্ষের এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তারা জানান, গত ১ আগস্ট রাতে গোষ্ঠীটির নেতৃত্বে থাকা জনকণ্ঠের চিফ অপারেটিং অফিসার আফিজুর রহমান এবং অন্যান্য সহযোগীরা অনলাইনে পত্রিকার টেমপ্লেট কালো রঙে পরিবর্তন করার মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে। এর প্রতিবাদে পরদিন ২ আগস্ট পত্রিকার কভার লাল রঙে প্রকাশ করা হয়, যা মালিকপক্ষকে রোষানলে ফেলেছে।
পত্রিকার ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজি বলেন, ‘২৫ আগস্ট কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের অনলাইন টেমপ্লেট পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। প্রতিবাদ করলে চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হয়।’ এ ঘটনায় ২০ জন সাংবাদিককে সাময়িক বরখাস্ত করার কথাও জানান তিনি।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ খন্দকার আলমগীর বলেন, ‘জনকণ্ঠ ভবন দখল করে বেতন বকেয়া সমস্যার সমাধান হবে না। আমাদের সহকর্মীদের বেতন সময়মতো পরিশোধের দাবি করছি।’ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ জানান, ‘৩০ জনের বেশি সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা সংবাদপত্র জগতের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। প্রায় ১৫ কোটি টাকা বকেয়া বেতন বকেয়া রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে পত্রিকার ডিজিটাল টিমের অ্যাডভাইজার সাবরিনা বিনতে আহমেদ সাংবাদিক ও কর্মচারীদের পক্ষে ৮ দফা দাবি উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে, চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহাল, বেতন বকেয়া পরিশোধ, মালিকপক্ষের অবৈধ ও ফ্যাসিবাদী আচরণের প্রতিবাদ, কর্মবিরতি পালন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগ।
বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিষয়টির দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করেন।