এস,এম,রুহুল তাড়াশী,
স্টাফ রিপোর্টার :-
সিরাজ গঞ্জ জেলা তাড়াশ উপজেলার ৫নং নওগাঁ ইউনিয়নের কালিদাস নিলী গ্রামের মৃত ওসমান আকন্দর ছেলে (বাচ্চু) নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার।
বাচ্চু আকন্দ প্রথমে কৃষি কাজ করতেন। এলাকার বিভিন্ন হাঁস খামারিদের হাঁস পালন দেখে নিজ বাড়িতেই হাঁসের খামার তৈরি করেন। সারাদিন হাঁসগুলো এখানে প্রাকৃতিক খাবার খায়। সন্ধ্যায় সেগুলোকে শুকনো স্থানে রেখে পরিচর্যা শেষে পুনরায় সকালে বিলে উন্মুক্ত করা হয়। এক জায়গায় স্থির না রেখে পানি ও প্রাকৃতিক খাবারের প্রাপ্যতানুসারে স্থানান্তর করা হয় হাঁসগুলোকে। নিজ বাড়ি গড়ে ওঠা খামারটি একদিকে বদলে দিয়েছে তার ভাগ্য, অন্যদিকে ওই এলাকাবাসী পেয়েছে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রেরণা। খামারী বাচ্চু আকন্দ জানান, ছোট পরিসরে প্রায় ২০ বছর ধরেই কালিদাশনিলী বিল ও বড় বিলে হাঁস পালন করে আসছেন তিনি। তার খামারে ক্যামবেল, ব্ল্যাকহল ও বেলজিয়াম জাতের হাঁস রয়েছে। বর্তমানে তার খামারে ৫০০শত থেকে ৬০০টি হাঁস রয়েছে। এখন গড়ে প্রতিদিন প্রায়৪০০ টি ডিম পাচ্ছেন তিনি। বাজারে চাহিদা থাকায় পাইকাররা খামার থেকে প্রতিটি ডিম ১৮ টাকা হিসাবে কিনে নিচ্ছেন। ডিম পরে মাংস উপযোগী হাসগুলো বিক্রি করলেও লগ্নিকৃত টাকার চেয়েও অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, আগে এর চেয়েও বেশি লাভ হতো। সকল খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমান কমে গেছে।

বাচ্চু আকন্দ আরও বলেন,
উপজেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে ভ্যাকসিন ও অন্যান্য সুবিধা পেলে আমাদের খরচ একটু কমে আসবে। তখন হয়তো বেশি লাভের মুখ দেখতে পারবো। কালিদাস নিলী গ্রামের গৃহবধুরা জানান,বাচ্চু ভাইয়ের খামার দেখে আমরাও পারিবাড়িক ভাবে খামার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছি। অনেকে আবার ছোট আকারে খামার করেছেনো। আশা করি আমরাও খামারের পরিচর্যা করলে লাভবান হব।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন,
নিজ বাড়িতে গড়ে ওঠা হাঁস পালনের খামার কালিদাশ নিলী গ্রামের বাচ্চু আকন্দের হাঁসের খামারটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। শুধু তিনিই নন, তাড়াশ উপজেলার অনেক এলাকাতেই এমন অসংখ্য হাঁসের খামার রয়েছে। হাঁসের খামারে অনেকেই বেকারত্ব দূর করেছেন।
তিনি আরও বলেন,আমি যদি কোন খামারি কে দেখি খামারের কী অবস্হা তা জিজ্ঞেস করি এমনি কী আমি এক খামারি কে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য পায়ে ধরেছিলাম। কারন আমি যতটুাু বুজি তারা আছে বলে তো আমারা আছি। তাড়াশ উপজেলা প্রানী সম্পদ প্রতিটা খামারির পাশে আছে, পাশে থাকবে ইনশাল্লাহ।