আরমান খান ছামির, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার্থীদের মেধার স্বীকৃতি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে এক আন্তরিক বন্ধন গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ ২০২৫’। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শোয়াইব আহমাদ খান, অতিরিক্ত সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ; জনাব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর; এবং প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী শাহেলা পারভীন, অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব), ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
অনুষ্ঠানে গত পর্ব সমাপনী পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জনের জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে নির্বাচিত ১ম, ৩য়, ৫ম ও ৭ম পর্বের মোট ৫৩ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন তাঁর বক্তব্যে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন,“ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা অর্জনের দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে।
তিনি তার বক্তৃতায় কারিগরি শিক্ষার সুফল,শিক্ষা সফলতা অর্জনের চ্যালেঞ্জ এবং কর্মক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষার প্রসারতা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষায় ব্যবহারিক ক্লাসের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে চাকরির ক্ষেত্রে এবং যারা উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে চায় তাদের বিভিন্ন রকম উপদেশ প্রদান করেন। কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে চাকরির পিছনে না ঘুরে নিজেরা অন্যের চাকরি প্রদান করবেন এরকম মনোভাব নিয়ে এ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী শাহেলা পারভীন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরাই কারিগরি শিক্ষার আসল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাদের সাফল্যই আমাদের প্রাপ্তি। “আমাদের শিক্ষার্থীরাই কারিগরি শিক্ষার প্রকৃত ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। তাদের সাফল্যই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ও প্রাপ্তি। আজকের এই কৃতিত্ব আগামী দিনের নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে দেবে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তারা নিজেদের জীবনের পাশাপাশি দেশের অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।””
অভিভাবকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন শুধু শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, বরং তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। সন্তানদের এমন সাফল্য দেখে তারা গর্বিত ও আবেগাপ্লুত। অনেক অভিভাবক বলেন, “এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের সন্তানদের প্রতি যত্ন ও প্রতিষ্ঠানের আন্তরিকতা অনুভব করায়। এতে তারা আরও মনোযোগী ও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে।”
অন্যদিকে, সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা জানায়, এই স্বীকৃতি তাদের জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত। তারা বলে, “আমাদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত অনুপ্রাণিত। ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল ও সাফল্য অর্জনের জন্য এই অনুষ্ঠান আমাদেরকে উৎসাহিত করবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথি, শিক্ষক, ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তোলা হয় স্মৃতিমূলক গ্রুপ ছবি। যা দিনটির সাফল্য ও আনন্দের মুহূর্তকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক উৎসবমুখর পরিবেশ — যেখানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য, অনুপ্রেরণা ও আনন্দের এক মেলবন্ধন। সমাবেশের প্রতিটি মুহূর্তে ফুটে উঠেছিল গর্ব, স্বপ্ন ও সাফল্যের উজ্জ্বল রঙ।