তবে প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহন, বিশেষ করে সিটি, লোকাল ও দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় ভোটার, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ভোটের দিন নগর ও আন্ত জেলা রুটে বাস চলাচল করবে কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার উত্তর না পাওয়ায় ভোটার ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপ-সচিব আল-আমিন মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।
এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত। আর ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও টিকিট দেখিয়ে বিমানবন্দরে যাতায়াতে বাধা থাকবে না। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রেও বিধি-নিষেধ শিথিল রাখা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে নির্বাচনে প্রার্থী ও তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টরা একটি করে ছোট গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিরারের অনুমোদন সাপেক্ষে যানবাহন ও মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং টেলিযোগাযোগ সেবা সচল রাখতে বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনগুলোকে জরুরি সেবা হিসেবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে বলেন, ‘গণপরিবহন তথা লোকাল বা দূরপাল্লার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না তা জানা নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তথ্য নিয়ে জানাতে হবে।’
ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি : সৌরভ আহমেদ (৬৫) একটি অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ভাটারা এলাকায় থাকলেও তাঁর ভোটার এলাকা তেজগাঁও। তিনি এখনো জানেন না ভোটকেন্দ্রে কিভাবে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আমি একসময় তেজগাঁওয়ে চাকরি করতাম। সেখানে দীর্ঘ সময় থাকায় সেখানকার ভোটার হয়েছি। প্রায় ১০ বছর ভাটারায় থাকছি। ভোটের দিন যদি লোকাল বাস না চলে তাহলে কিভাবে ভোট দিতে যাব চিন্তায় আছি। কারণ শুনছি, সিএনজি বা ছোট গাড়িগুলোও বন্ধ থাকবে।’
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচন-কেন্দ্রিক আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা থাকে, তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সজাগ থাকলে সেটি সমস্যা হওয়ার কথা না। ভোটারদের চলাচল সহজ করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। যদি গণপরিবহনের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়, এতে ভোটারদের বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ