সাত্তার আব্বাসী, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোচিংয়ে পড়লে তারা পরীক্ষার অন্তত দুই দিন আগেই প্রশ্নপত্র হাতে পায়। অভিভাবকরা দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম ধর্মের শিক্ষক কামরুজ্জামান, পদার্থ ও রসায়নের শিক্ষক তৈমুর হাসান, বাংলা ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক লিলি খাতুন, গণিতের শিক্ষক সামান আলী শেখ এবং ইংরেজি শিক্ষক আবুল কাশেম, এই পাঁচ শিক্ষককে ঘিরেই একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই শিক্ষকরা নিজ নিজ কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগাম প্রশ্ন সরবরাহ করে থাকেন।
এছাড়া, বিদ্যালয়ের অব্যবস্থাপনাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ। ছাত্রাবাসটি ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মচারীরা সেটি ব্যবহার করছেন। ল্যাব সরঞ্জাম, টিফিন বাজেট, গাছ বিক্রি ও উন্নয়নমূলক কাজে রয়েছে নানামুখী অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. আফসার আলী বলেন, “আমি এককভাবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছি।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)-এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযুক্ত শিক্ষকরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, প্রশ্ন ফাঁস সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। বরং অনেকেই প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করছেন।
অভিভাবকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চলতে থাকলেও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা হতাশ। সর্বশেষ গত ৭ জুলাই লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অনিয়ম দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে আদৌ দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না।