ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় গ্রেফতার হয়েছেন বাংলাদেশের একজন মডেল ও অভিনেত্রী শান্তা পাল। ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় কলকাতার যাদবপুর থানার পুলিশ তাকে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে আটক করে। এই ঘটনাটি এখন দুই বাংলার সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শান্তার অবস্থান নিশ্চিত করে যাদবপুর থানা পুলিশ। এরপর তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার (৩০ জুলাই) তাকে কলকাতার স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৮ আগস্ট পর্যন্ত তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার আদেশ দেন।
শান্তা পালের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভারত সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদ, আধার কার্ড, ভোটার আইডি এবং রেশন কার্ড। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় নাগরিকত্ব সংক্রান্ত এসব নথিপত্র সংগ্রহ করলেন?
ভারতে জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও অবৈধভাবে নাগরিকত্ব গ্রহণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। শান্তা কীভাবে এই নথিপত্র সংগ্রহ করলেন, তা নিয়ে তদন্তে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ ছাড়াও ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও ফরেনার্স ট্রাইবুনাল।
ভারতীয় নাগরিক সনদের মধ্যে আধার কার্ড জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকলেও, ভোটার আইডি ও রেশন কার্ড সরাসরি সরকারি নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার বহন করে। এগুলো কেবল বৈধ নাগরিকদেরই প্রদান করা হয়।
এখন পর্যন্ত জানা গেছে, শান্তা পাল বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন ঠিকই, তবে তার ভিসার মেয়াদ বা বৈধতা সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট নথি তদন্তকারী সংস্থার হাতে নেই। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে তিনি পর্যটক ভিসা নিয়ে এসেছিলেন নাকি ভিসাবিহীন অনুপ্রবেশ ঘটেছে।
যদি প্রমাণিত হয় যে শান্তা ভিসা নিয়ম ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করছিলেন, তবে তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট, ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট অ্যাক্ট এবং আইডেন্টিটি থেফট আইনে একাধিক মামলা দায়ের করা হতে পারে।
শান্তা পাল বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করতেন। কলকাতায় তিনি কিছু সময় ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার কর্মকাণ্ডে কোনো চক্র বা পৃষ্ঠপোষকতা ছিল কি না, সে দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, শান্তা কোনো জাল নাগরিকত্ব তৈরির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন। বিষয়টি এখন সাইবার ক্রাইম শাখা ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-র নজরেও রয়েছে।
এ ঘটনা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একজন শিল্পী ভারতে আইন ভাঙার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বাংলাদেশ সরকার বা কনস্যুলেট অফিস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে কলকাতার স্থানীয় রাজনৈতিক মহলও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ইস্যু আবার সামনে নিয়ে এসেছে।
ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তার মামলাটি এখন একটি সাধারণ অনুপ্রবেশের অভিযোগ নয়, বরং আন্তর্জাতিক নথিপত্র জালিয়াতি ও অবৈধ বসবাসের একটি বিস্তৃত তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছে। তার সঙ্গে জড়িত কারা, কোন চক্র তাকে সহায়তা করেছে এবং উদ্দেশ্য কী ছিল—তা বের করা এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।