• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এই বাজেট অধিক ঋণনির্ভর,উচ্চাভিলাষী অবাস্তবায়নযোগ্য এবং লুটপাটের : জামায়াত সালমান শাহ’র মাকে হুমকির অভিযোগ শিবা শানুর বিরুদ্ধে নিশোর ‘সুড়ঙ্গ ২’ আসছে বছরের শেষেই কানাডায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার যাচ্ছেন কাল মৌলভীবাজার সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত কানাডার সঙ্গে রাত ১টায় লড়বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা হাতিরঝিলে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন কেন উইলিয়ামসন চাঁদপুর জেলায় সার্বিক মূল্যায়নে কচুয়া থানা শ্রেষ্ঠ থানা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে

“শেষ কবে মাংস খেয়েছি, মনে নেই”— ক্যান্সার আক্রান্ত জাহানারার চোখে আনন্দের জল

প্রতিবেদক / ১৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলার বৈঠাকাটা গ্রামের জাহানারা বেগম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে আক্রান্ত এই নারী দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সংসারের অভাব-অনটন আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ প্রায় নিঃস্ব। এমন অবস্থায় শেষ কবে মাংস খেয়েছেন, সেই স্মৃতিও মনে করতে পারেন না তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী জামাল হাওলাদার পেশায় একজন জেলে। নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতেন। কিন্তু স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে পরিবারের সহায়-সম্বল। এখন সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকার ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

অভাব এতটাই প্রকট যে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের দুপুরের খাবার ছাড়াই থাকতে হয়। নদীতে মাছ ধরলেও অধিকাংশ মাছ বিক্রি করে দিতে হয় সংসার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে। ফলে নিজেদের জন্য মাছ কিংবা মাংস খাওয়া যেন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।

শেষ কবে মাংস খেয়েছেন— এমন প্রশ্ন শুনে কিছুক্ষণ নীরব হয়ে যান জাহানারা বেগম। এরপর চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, “মনে করতে পারি না বাবা, কবে মাংস খেয়েছি।”

সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফের পক্ষ থেকে দেওয়া দুই কেজি কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। মাংস হাতে পেয়েই দ্রুত রান্নার আয়োজন শুরু করেন। রান্না শেষ হয়েছে কি না, তা জানতে ছোট ছেলে বারবার মায়ের কাছে ছুটে আসে। ভাত তখনও রান্না হয়নি। ছেলের আগ্রহ দেখে মুড়ির সঙ্গে কিছু মাংস খেতে দেন তিনি।

পাশে বসে সন্তানের তৃপ্তি নিয়ে মাংস খাওয়া দেখছিলেন জাহানারা বেগম। তার চোখে ছিল অপার মমতা, মুখে প্রশান্তির ছাপ। সন্তানের মুখে এমন আনন্দ দেখে কিছুক্ষণের জন্য যেন ভুলে গিয়েছিলেন নিজের অসুস্থতা, অভাব আর জীবনের সব কষ্টের কথা।

দীর্ঘদিনের কষ্ট আর বঞ্চনার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসিই যেন তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কোরবানির সেই মাংস তাই শুধু একটি খাবার নয়, জাহানারা বেগমের পরিবারের জন্য ছিল ঈদের আনন্দ, ভালোবাসা ও মানবিকতার এক অনন্য উপহার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা