• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

সাভারের “হেমায়েতপুর ফুটপাত” দখল; নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

প্রতিবেদক / ২৬৩ বার
আপডেট : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

‎গোপাল মালাকার,সাভার।

‎ঢাকা জেলার অর্ন্তগত সাভার উপজেলার ‎হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডের দুপাশের ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে। মাঝে মাঝে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও মিলছে না কোন স্থায়ী সমাধান ফলে প্রতিনিয়তই বিলম্বনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।
‎উপজেলার বাসস্ট্যান্ডটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ, দোহার,নবাবগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা সহ মানিকগঞ্জের সাথে সরাসরি সংযুক্ত হয়েছে যার ফলে দৈনিক কয়েক লক্ষ মানুষ এই সড়কটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ব্যবহার করে থাকে।
‎এছাড়াও এ অঞ্চলটি শিল্প কারখানার জন্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হওয়ায় কলকারখানার অগণিত যানবাহন ও কর্মী এই বাস্ট্যান্ডটি তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
‎এই বাসস্ট্যান্ডের ফুটপাত ও রাস্তার কিছু অংশ দখলে থাকার ফলে দেখা যায় অতীব জরুরী পন্য, অ্যাম্বুলেন্স সহ অন্যান্য যানবাহনকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায় বাসস্ট্যাটির দক্ষিণ পূর্বপাশে যত্রতত্রভাবে হকারদের গাড়ি থামিয়ে একটি রঙ্গীন বড় ছাতার নিচে তারা তাদের পন্যের পসরা সাজিয়ে বিক্রয় করছে ফলে জনগনের যেমন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে তেমনি পথচারীদেরও পোহাতে হচ্ছে বিলম্বনা।
‎ফুটপাত দখলকারীরা আইনের তোয়াক্কা না করে তারা অবৈধভাবে ফুটপাট দখল করে বহাল তবিয়তে ব্যবসায় পরিচালনা করে যাচ্ছে।

‎অনুসন্ধানে দেখা যায় দখলকারীরা ফুটপাট দখলকরে ব্যবসায় প্ররিচালনা করার জন্য এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান করে যাতে তারা নিবিঘ্নে ফুটপাত দখল করে ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারে।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফুটপাত দখলকারী জানান তারা দীর্ঘদিন যাবৎ অর্থের বিনিময়ে ফুটপাতের জায়গা দখলে নিয়ে এভাবেই ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে তারা তাদের এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে আরো জানান জায়গা ভেদে পাঁচশত টাকা থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় এক, একটি দোকানের জন্য।
‎প্রশাসনের ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, সময়ে সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে কিন্তু প্রশাসন চলে যাবার পর পরেই আবারো পূর্বের ন্যায় শুরু হয় এই অবৈধ ফুটপাত দখল।
‎আরো একজন পাশ থেকে যোগ করেন সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড দখল মুক্ত হয়েছে কিন্তু হেমায়েতপুর ফুটপাট দখল মুক্ত হবে না। কারন এখানে প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান পরিচালনা করেন কিন্তু দখলমুক্ত রাখার জন্য যে তদারকি প্রয়োজন তা তারা করছে না ফলে ফুটপাত পরিপূর্ণ ভাবে দখলমুক্ত হচ্ছে না।

ফুটপাত দখলকারীরা জানান আমরা জীবিকার তাগিদে এই ফুটপাতে নিজেদের রুটি রুজির জন্য বসি যাতে বৌ-বাচ্চা নিয়ে দু বেলা ডালভাত খেতে পারি। এখানে বসার জন্য আমাদের প্রতিদিন বিপুল পরিমান টাকা দিতে হয়। তিনি আরো জানান প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি তাদের পুর্নবাসন করে দেয়া হয় তাহলে এ বাড়তি টাকাটা আর দিতে হতো না আর ফুটপাতে বসতেও হতো না।

‎একজন পথচারীর সাথে ফুটপাত দখলের বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান,দেখুন যখন আমরা অফিস শেষে বাসায় ফিরি অনেক সময় এই ফুটপাত দখলের কারনে বাসায় ফিরতে বিলম্ব হয় । নানা সময় ফুটপাতে স্বাভাবিক ভাবে হাটতেও অসুবিধা হয়। আবার এটাও সত্যি ফুটপাতে হকাররা থাকার ফলে আমরা অনেক জিনিস কম দামে কিনতে পারি যা যে কোন দোকান থেকে নিতে গেলে অনেক টাকা লাগতো।

‎ফুটপাত দখলের বিষয়ে ঢাকা জেলার সাভার সার্কেল এ.এস.পি’র সাথে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা