আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত দ্রুত শেষ না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কমানোর লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হামলা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনায় ভূমিকা রাখতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত নিজেদের অবস্থান নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের রাজধানী নিকোসিয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী কনস্টান্টিনোস কোম্বোসের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ওয়াডেফুল। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই মনোযোগ ধরে রেখেছে।
ওয়াডেফুলের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যই নয়, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও সম্ভাব্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “এই হামলাগুলো সম্ভবত চলতেই থাকবে-যতক্ষণ না নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয় বা ইরান আলোচনায় বসতে আন্তরিক আগ্রহ দেখায়।”
এ সময় তিনি ইউরোপীয় নেতাদের দ্রুত সমন্বিত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা বা কূটনৈতিক উদ্যোগে ইউরোপ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি নতুন করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কায় সাইপ্রাসের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। তবে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রশ্নে আবারও না সূচক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে চলমান সংঘাতের বিষয়ে জার্মানির অবস্থানের সমালোচনা করে ইরান। গত সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, জার্মান চ্যান্সেলরের চাপের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু সদস্য এমন অবস্থান নিতে পারে, যা তাদের ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড় করাবে।
বাঘাইয়ের অভিযোগ, এ ধরনের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধের সহযোগী হিসেবে ইউরোপকে চিহ্নিত করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত নাৎসি যুগের মানসিকতার মতো কোনো পদক্ষেপকে সমর্থন না করা এবং আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি তাদের অঙ্গীকার অটুট রাখা।