নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাজধানী ঢাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় নতুন করে লোডশেডিং কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেচ কার্যক্রম সচল রাখা এবং দেশের কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, রাজধানীতে পরীক্ষামূলকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ লোডশেডিং কার্যকর করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিশেষ করে সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেই কারণে শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যুৎ বণ্টনে সাময়িক সমন্বয় আনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত মূলত বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় দেশজুড়ে বিভিন্ন সময়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং চালু করা হয়েছিল। ঢাকাতেও নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী এক থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং কার্যকর ছিল বলে বিভিন্ন সময় জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরকার এখন নিয়ন্ত্রিতভাবে লোডশেডিং ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।
এদিকে নগরবাসীর মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, এতে নগরজীবনে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
সরকার বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে পর্যায়ক্রমে এই লোডশেডিং কমিয়ে আনা হবে।