আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধের মুখে শিগগিরই তেল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে ইরান।
তিনি জানান, ওয়াশিংটন ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি বিস্তৃত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার লক্ষ্য ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ককে দুর্বল করা। এই অভিযানের আওতায় শ্যাডো ব্যাংকিং অবকাঠামো, ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের সুযোগ, অবৈধ জাহাজ বহর এবং অস্ত্র সংগ্রহের নেটওয়ার্ককে টার্গেট করা হয়েছে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন কমাবে না, বরং চীন-এর অনিবন্ধিত ‘টি-পট’ শোধনাগারগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি করবে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের তেল বাণিজ্যে সহায়তা করে আসছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরান সরকারের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। তিনি বলেন, এতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণ হয়েছে এবং জাতীয় মুদ্রা ইরানি রিয়াল দ্রুত অবমূল্যায়নের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতির অংশ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতেও অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, ফলে তেল রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বেসেন্টের মতে, এর ফলে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারাচ্ছে।
এদিকে রাশিয়া ও চীন এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইরানি তেলের ঘাটতি পূরণে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উৎপাদন কিছুটা বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মুদ্রা রিয়াল রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে এবং দেশটিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে এই প্রভাব কমাতে সরকার ভর্তুকি ও রেশনিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স