আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরানের জনগণের উদ্দেশে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরিনি। সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অবকাঠামো, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে নাগরিকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি সপ্তাহে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফাতেমা। তিনি জানান, সংকটের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত সচল রাখতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নেকা অঞ্চলে মাত্র ৯৯ দিনের মধ্যে একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট চালু করা হয়েছে, যা একটি বড় প্রকৌশল সাফল্য। বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সচল রাখতে কর্মীদের অবদানও তিনি প্রশংসা করেন।
শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংঘাতকালেও পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন সেবা খাত চালু রাখতে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও সমানভাবে সম্মানের দাবি রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে মুখপাত্র জানান, যোগাযোগ বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবসা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালু রাখতে সীমিত ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা খাতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি জানান, অন্তত ১৬টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুনর্গঠন ও পরীক্ষা সূচি নিয়ে কাজ চলছে।
আবাসন খাতে ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মেরামত ও পুনর্গঠনে ছয় মাস থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে।
পরিবহন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের ভাড়া বাড়ানো হবে না, তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কিছুটা বৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান ধরে রাখতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্য নিজস্বভাবে উৎপাদিত হয়, ফলে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই। নৌ অবরোধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।