জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে জাতীয় সংসদে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকরের ঘোষণা দেন।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন স্কেল বা গ্রেড বিন্যাস পাচ্ছেন। নতুন পে স্কেল খাতের জন্য আসন্ন বাজেটে ঠিক কত টাকা এককভাবে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হতে প্রায় তিন অর্থবছর সময় লাগতে পারে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এর আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সংশোধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হতে পারে। তবে এ জন্য বাজেটে আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাত ও বিভিন্ন থোক বরাদ্দ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে—
ক্যাডার কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা
কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতার জন্য ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থমন্ত্রীর সংসদে প্রস্তাবিত বরাদ্দই চূড়ান্ত থাকছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের মধ্যে ১:৮ অনুপাতে পার্থক্য রাখা হয়েছে। বর্তমানে যা ১:৯.০৭৬। এর আগের বেতনকাঠামোতেও একই অনুপাত রেখেছিল কমিশনগুলো।
এছাড়া সব পর্যায়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াইগুণের মতো মূল বেতন বাড়ানো হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোতে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডে বাড়ি ভাড়াসহ মূল বেতনের সঙ্গে সব ভাতা যোগ করে দাঁড়াবে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা।
গ্রেড ১: ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
গ্রেড ৩: ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
গ্রেড ৪: ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা।
গ্রেড ৫: ৪৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার টাকা।
গ্রেড ৬: ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭১ হাজার টাকা।
গ্রেড ৭: ২৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৮ হাজার টাকা।
গ্রেড ৮: ২৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৭ হাজার ২০০ টাকা।
গ্রেড ৯: ২২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা।
গ্রেড ১০: ১৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ হাজার টাকা।
গ্রেড ১১: ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা।
গ্রেড ১২: ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা।
গ্রেড ১৩: ১১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার টাকা।
গ্রেড ১৪: ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা।
গ্রেড ১৫: ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা।
গ্রেড ১৬: ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
গ্রেড ১৭: ৯ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা।
গ্রেড ১৮: ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ হাজার টাকা।
গ্রেড ১৯: ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা।
গ্রেড ২০: ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটও এটি।