• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের অভিযোগ, এসআইসহ তিনজন প্রত্যাহার

প্রতিবেদক / ৫ বার
আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর এবং পরে থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)সহ তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নাঈম হাসানের অভিযোগ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন তিনি। লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়ি থামান। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়।

নাঈম জানান, তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্রও দেখান। কিন্তু এরপরও তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম লাঠি দিয়ে এবং পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে বহু মানুষ তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করলেও পুলিশ মারধর বন্ধ করেনি। একপর্যায়ে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি অটোরিকশার মাধ্যমে চোরাচালানের তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে তথ্যের সত্যতা এবং অভিযানে নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চোরাচালান সংক্রান্ত একটি তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। তবে ওই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, এক কনস্টেবল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় মারধর ও অপহরণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, থানায় আনার পর নাঈমের পরিচয় জানা গেলে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদস্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নাঈম হাসান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা